ওঙ্কার ডেস্ক: কলকাতায় পূর্বাঞ্চলীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সদ্য সংস্কারকৃত মুক্তাঙ্গন ‘ইজেডসিসি রঙ্গমঞ্চ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হল। ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনস্থ সাতটি জোনাল সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের অন্যতম এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরেই দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নতুন রূপে সাজানো এই রঙ্গমঞ্চের উদ্বোধনের মাধ্যমে পূর্বাঞ্চলের শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হল বলে মনে করা হচ্ছে।
রঙ্গমঞ্চের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী শ্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত। উদ্বোধনী পর্বের পরেই শুরু হয় এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে ভারতের বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ শিল্প ঐতিহ্যের নানা রূপ তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় প্রায় ৭০ জন শিল্পীর সম্মিলিত পরিবেশনায় বেহালায় বাজানো ‘বন্দে মাতরম’-এর আবেগঘন সুরে। দেশাত্মবোধক এই পরিবেশনা দর্শকদের গভীরভাবে স্পর্শ করে এবং সমগ্র অনুষ্ঠানের জন্য এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি করে। এরপর একের পর এক লোকনৃত্য ও বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শিল্পরূপ মঞ্চে উঠে আসে। এই পরিবেশনাগুলিতে ভারতের অদৃশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গভীরতা ও বৈচিত্র্য স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। শিল্পীদের দক্ষতা ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পরীতির উপস্থাপন দর্শকমহলে বিশেষ সাড়া ফেলে।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি ও শিক্ষাক্ষেত্রের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ইজেডসিসি কলকাতার পরিচালক ড. আশিস কুমার গিরি, ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের পরিচালক শ্রী এ. ডি. চৌধুরী এবং ন্যাশনাল লাইব্রেরির মহাপরিচালক শ্রী অজয় প্রতাপ সিং। এছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনেরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
সংস্কারকৃত ইজেডসিসি রঙ্গমঞ্চের উদ্বোধনকে ভারতের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণ ও প্রসারের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই রঙ্গমঞ্চ ভবিষ্যতে পূর্বাঞ্চলের শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য এক প্রাণবন্ত ও গতিশীল মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পারফর্মিং আর্টসের সঙ্গে সাধারণ মানুষের আরও নিবিড় ও গভীর সংযোগ গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ বিশেষ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
