বিপ্লব দাশ : দেশ জুড়ে বাংলা ভাষা নিয়ে প্রতিবাদী অবস্থানের মধ্যেই অন্তর্দলীয় কলহে জড়ালো তৃণমূল। আপাত দৃষ্টিতে এটা দলের শৃঙ্খলা ও কর্মক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা মনে হলেও, এরমধ্যে বহুমাত্রিক গণিতের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কয়েকটি সম্ভাবনা সামনে রাখলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা খুব একটা সহজ সরল টাস্ক নয় বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যেহেতু অঙ্কটা জটিল তাই এক্ষেত্রে দলনেত্রীর তিনটি ফর্মুলা কাজ করতে পারে।
এক, সাংসদদের সঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমন্বয়ের অভাব, দলনেত্রীর ভর্ৎসনার পর চীফ হুইপ থেকে ইস্তফা দিলেন। ইস্তফা দিয়েই তিনি চুপ থাকেননি। সংবাদমাধ্যমে সোচ্চার হয়েছেন। ঘুরে ফিরে এসেছে সেই মহুয়া বিদ্বেষ। তবু তাঁকে থামাতে আসরে নামেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাত দিন অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন দলনেত্রী।
দুই, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় অসুস্থ, এই কারণে অভিষেক বন্দ্যোপাধায়কে লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলনেতা হিসেবে নিয়োগ করা। সংসদে দলের অনেক অভিজ্ঞ সাংসদকে টপকে অভিষেককে জাতীয় রাজনীতিতে ঠেলে দেওয়ার পিছনে একটা কৌশল কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, ২৬শের দিকে তাকিয়ে উপমুখ্যমন্ত্রীর দাবিদার আগে থেকে সরিয়ে রাখলেন মমতা। অর্থাৎ দলের মধ্যে সমান্তরাল প্রশাসনকে আগে থেকেই রুখে দিলেন তিনি। আর এটা হল এমন এক সময়, যখন দলের সামনে ২৬শের চ্যালেঞ্জ আর নেতারা বাংলা ভাষার কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত।
এবং তিন, রাতারাতি লোকসভার চীফ হুইপ হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে এনে তিনি একইসঙ্গে দলের মধ্যে নারী মর্যাদাও প্রতিষ্ঠা করলেন। এক্ষেত্রে বীরভূমে শতাব্দী রায়ের গুরুত্ব বাড়াতে তাঁকেও জুড়ে দিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে, তাঁর ডেপুটি করে।
ফলে এক ঢিলে দলের মধ্যে একাধিক বিপদের সম্ভাবনা কুপোকাত করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন এমনি এমনি সর্বজনবিদিত দিদি হওয়া যায় না। কিন্তু দূর্ভাগ্য তাঁর চারপাশে যে দুর্নীতির বলয়, তাতে সম্ভাবনা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে তাঁকে সহ্য করতেই হয় প্রতিকূল পরিস্থিতি। তাই ২৬শের ভোটে বাঙালি কী বাংলার মেয়েকেই চাইবে কিনা তা এখনও ভাববার বিষয়। ইস্যু একটাই, তা হল বাঙালিয়ানার আবেগ। আপাতত তাঁকে আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান নিয়ে নামতে হচ্ছে ড্যামেজ কন্ট্রোলে।
