ওঙ্কার ডেস্ক: গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও কাণ্ডের পর যে ভাবে গোটা ভারতজুড়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তা ছিল কার্যত নজির বিহীন। গোটা দেশ চাইছিল এই নারকীয় হামলার প্রত্যাঘাত করুক ভারতের সেনা বাহিনী। অবশেষে গত ৭ মে অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালিয়েছিল ভারত। এই অভিযানে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি জায়গায় জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করেছিল ভারতের বাহিনী। চার দিন ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাত চলে। সেই সময় পাকিস্তানের পাশে খোলাখুলি দাঁড়িয়েছিল তুরস্ক। এমনকি তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান ইসলামাবাদকে বেশ কিছু ড্রোন দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। পাকিস্তানের প্রতি এমন প্রেমের কারণে ভারতীয় পর্যটকরা তুরস্ক ভ্রমণ বাতিল করতে শুরু করে। তথ্য অনুযায়ী, শুধু কলকাতা থেকে ১৫০০ জন তুরস্ক ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। এর ফলে আঙ্কারার ৬০ থেকে ৭৫ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে মত বাজার পর্যবেক্ষকদের।
বেশিরভাগ ভারতীয় তুরস্কে যান বিয়ের অনুষ্ঠান করতে কিংবা সিনেমার শ্যুটিং করতে। ভারতীয়দের বরাবর পছন্দের জায়গা তুরস্ক। কিন্তু অপারেশন সিঁদুর এবং সেই আবহে দেশটির অবস্থান ভারতীয় পর্যটকদের গন্তব্য স্থলের পুরো অভিমুখ ঘুরিয়ে দিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে ইউরোপের দেশটির শুধু পর্যটনশিল্পে ক্ষতি হয়নি। ভারতের পদক্ষেপের ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে এবং বিমান পরিষেবা ক্ষেত্রেও ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে দেশটি। দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। একই পথে হেঁটেছে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় এবং উত্তরপ্রদেশের কানপুর বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া তুরস্কের বিমান পরিষেবা সংস্থা ‘টার্কিশ এয়ারলাইন্স’-এর কাছ থেকে দু’টি বোয়িং-৭৭৭ বিমান লিজে নিয়ে ব্যবসা করছিল ‘ইন্ডিগো’। কিন্তু, চলতি বছরের ৩১ অগস্টের পর আর তা ব্যবহার করতে পারবে না সংস্থাটি। কারণ কেন্দ্রের ‘ডিরেক্টর জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন’ ওই লিজ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে। সব মিলিয়ে ভারত একের পর এক পদক্ষেপ করছে তুরস্কের বিরুদ্ধে।
