ওঙ্কার ডেস্ক: মৃত্যুর প্রায় দেড় মাস পর ঠিক জাতীয় নির্বাচনের আগে দিপু দাসের পরিবারকে ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসাবে দেওয়ার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের অন্তরবর্তী সরকার। দেশের দীর্ঘ প্রতিক্ষিত জাতীয় নির্বাচনের ঠিক দুই দিন আগে একটি সরকারী বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে ইউনুস সরকার।
প্রসঙ্গত গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় নৃশংস গণপিটুনির ঘটনায় নিহত হন যুবক দীপু চন্দ্র দাসে। সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আবহে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে দীপুর স্ত্রী, বাবা-মা ও ছোট সন্তান। সেই পরিস্থিতিতে সরকারের এই আর্থিক সহায়তার করার ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, দীপু দাসের পরিবারের জন্য স্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থে একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হবে, যাতে পরিবারটি নিরাপদ ও স্থিতিশীলভাবে বসবাস করতে পারে। পাশাপাশি পরিবারের তাৎক্ষণিক খরচ ও ভবিষ্যৎ জীবিকা নির্বাহের কথা মাথায় রেখে দীপুর বাবা ও স্ত্রীর হাতে আলাদা করে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তার অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য ৫ লাখ টাকা স্থায়ী আমানত হিসেবে জমা রাখা হবে, যাতে বড় হয়ে পড়াশোনা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো যায়।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পুরো সহায়তা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণ এবং অর্থ হস্তান্তরের কাজ ধাপে ধাপে করা হবে, যাতে কোনও রকম জটিলতা বা বিলম্ব না ঘটে। সরকারি আধিকারিকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, একটি জীবন কখনও টাকার অঙ্কে মাপা যায় না, তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দীপুর মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা কোনওভাবেই পূরণ হওয়ার নয়, তবে সরকারের এই সহায়তা অন্তত তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা নিশ্চিন্ত করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও আশা করছেন, এই পদক্ষেপ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থানকে স্পষ্ট করবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে কার্যকর ভূমিকা নেবে।
