বিপ্লব দাশ : তাঁর বিচ্ছুরণে স্পষ্ট হচ্ছে হীরক রাজার দেশ। আর তিনিও যে একনায়ক তা সর্বজন বিদিত। কিন্তু সব হীরক রাজার দেশের আড়ালে একটা দড়ি প্যাঁচাতেই থাকে। ওই যে “দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খান খান……” সত্যি সত্যজিৎবাবুর এলেম ছিল বটে। চল্লিশ বছর আগে যা দেখিয়েছিলেন সেই ট্রেডিশন সমানে চলছে। ফলে রাজা যা করেন তাইই সত্য। তিনি বলবেন, যুদ্ধ থামাতে। যুদ্ধ থেমে যাবে। তিনি বলবেন, নোবেল প্রাইজ দিতে, তাতে ঘাড় দোলাতেই হবে। নইলে শুল্ক-শূল ! তাঁর সমস্ত বাসনার ফর্দ টাঙানো হয় ‘ট্রুথে’। সত্য মিথ্যার বালাই নেই। তিনি রাজা, তার উপর হীরক দেশের রাজা, যা বলবেন তাইই সত্য। তিনিই তো বলেন, প্রবৃত্তির উপর নির্ভর করেন না, তাঁর যা কিছু প্রক্রিয়ার উপর। ফলে নীতি নয়, প্রক্রিয়াই সব। তাঁর ইচ্ছা অনিচ্ছার পিছনে মনুষ্য মস্তিষ্কের কোনো কদর নেই। কারণ, মস্তিষ্কে প্রবৃত্তি থাকে, শক্তিতে থাকে প্রক্রিয়া।
কিন্তু ইতিহাস বলে, সব পরাক্রমই সমাগমে শক্তি হারায়। অর্থাৎ পরাক্রম জন্ম দেয় পরিবর্তনের, বিনিময়ে পরিবর্তন দেয় বিলোপ। ওই যে, দড়ি ধরে মারো টান রাজা হবে খান খান। সেই দড়ির পাক পড়ছে কী এবার সাংহাইতে ! রাজা কি বুঝতে পারছেন, তার রাজ্যের বাইরেও সাম্রাজ্য থাকে, সেখানে রাশিয়া আছে, ভারত আছে, চিন আছে……
সে যাই হোক, অত কিছু জানলে আর রাজা হওয়া যায় না। তা জানবে বিদ্বদজনেরা। তার ফর্দ বানাবে মন্ত্রীকুল। তিনি রাজা, শুধু জয় করবেন বলে সিংহাসনে আসিন। ফলে জয়গান চাই। তারই বা অভাব কই ! বেসেন্ট, মিলার, নাভারো……। সেইসব বংশবদদের স্তুতিগান তাঁকে শক্তি দেয়। নার্ভক্রিয়ায় মলম দেয়। তিনি ভালো করেই জানেন, অন্যদের লেলিয়ে দিয়ে পেশীচর্চা করলে বাইসেপস ট্রাইসেপস সক্রিয় থাকে। কিন্তু সমাগম তা মানবে কেন ? তারা রোদ বৃষ্টি চায়, ঋতুর পরিবর্তন চায়।
ভুক্তভুগীরা ভাবেন, পশ্চিমে অস্ত যায় এটা সত্য, কিন্তু আকাশ পরিষ্কার হলে পূর্বে সূর্যোদয়, এটা তো মিথ্যে নয় !
