
ওঙ্কার ডেস্ক: টানা বিতর্কের পর অবশেষে লোকসভায় পাশ হয়ে গেল সংশোধিত ওয়াকফ বিল। বুধবার গভীর রাতে এই বিল পাশ হয়। মোদী সরকারের আনা এই বিলের পক্ষে ভোট দেন ২৮৮ জন সাংসদ, বিলের বিপক্ষে ভোট দেন ২৩২ জন সাংসদ।
বুধবার রাতে সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় এই বিল পাশ হয়ে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিলটি পেশ হবে সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায়। সংশোধিত ওয়াকফ বিলকে অসাংবিধানিক বলে সরব হয়েছে বিরোধীরা। কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ‘ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল, ২০২৫’ পেশ করে বলেন বিরোধীরা এই বিল নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে। তিনি দাবি করেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাসে হস্তক্ষেপ করছে না এই বিল। বিল পেশের মাঝে পূর্বতন কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করেন রিজিজু। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ওয়াকফের হাতে সংসদ ভবনের অধিগ্রহণ আটকেছেন। ইউপিএ সরকার সংসদ এবং বিমানবন্দরের জমি ওয়াকফের হাতে তুলে দিয়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ, আমাদের দেশে মোট ওয়াকফ সম্পত্তির সংখ্যা ৪.৯ লক্ষ থেকে বেড়ে ৮.৭২ লক্ষ হয়েছে। যদি এই পরিমাণ ওয়াকফ সম্পত্তি সঠিক ভাবে পরিচালিত হত, তা হলে কেবল মুসলমানদের জীবনকেই উন্নত করত না, সমগ্র দেশের ভাগ্যকেও বদলে দিত…।’
অন্যদিকে এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে বলেন, ‘ওয়াকফ সংশোধনী বিলের আড়ালে কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন সম্প্রদায়কে ভাগ করতে চাইছে। যদি ওরা একতাই চায়, তা হলে বিলে কেন ভাগের চেষ্টার কথা? সম্প্রদায়ের উপর ভিত্তি করে ওয়াকফ বোর্ডের মধ্যে শ্রেণিবিভাগ শাসকদলের খারাপ উদ্দেশ্যই ইঙ্গিত করে।’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘ওয়াকফ বিল হল সরকারি মাধ্যম দিয়ে ওয়াকফ সম্পত্তি দখলের একটি প্রচেষ্টা। প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলি অযৌক্তিক। ওয়াকফ সম্পত্তি মুসলিম সম্প্রদায়ের মেরুদণ্ড।’