ওঙ্কার ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষে কলকাতার শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে স্ট্রংরুম পরিদর্শনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র রাজনৈতিক বার্তা দিলেন। গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার পর বেরিয়ে এসে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ভোট লুট বা ইভিএমে কারচুপির কোনও চেষ্টা হলে তৃণমূল কংগ্রেস তা কোনওভাবেই মেনে নেবে না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রয়োজনে হাজার নয়, ১০ হাজার মানুষকে রাস্তায় নামানো হবে গণরায় রক্ষার জন্য। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর অস্বাভাবিক মোতায়েন এবং স্ট্রংরুম ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। সেই কারণেই দলের কর্মী-সমর্থকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর বার্তা, বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের বাইরে সাংবাদিকদের সামনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে প্রতিটি ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিরোধীদের চক্রান্তের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অন্যদিকে ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারি এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী যেন কোন ভাবেই বাড়তি সুবিধা না পান”। এর জেরে এই পরিস্থিত রাজনৈতিক ভাবে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে স্ট্রংরুম পাহারায় কড়া নজরদারির ডাক দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে বিরোধীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষপের তীব্র নিন্দা করে শাখাওয়াম মেমোরিয়ালের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে।
ফল ঘোষণার আগেই শাখাওয়াত মেমোরিয়ালকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ভোটের ফলাফল ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের ইঙ্গিত দিয়ে মমতার এই হুঁশিয়ারি আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।