বিপ্লব দাশ : ডি এ এর বেলায় ভাঁড়ার শূন্যে। তবু চালু হল ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প। অথচ বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের যৌথ সংগ্রামী মঞ্চ। সে ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না রাজ্য সরকারকে। বরং সরকারের আর্থিক অনটনের যুক্তি খাড়া করে আদলতের দারস্থ হতে হচ্ছে। কলকাতা হাইকোর্টের গন্ডি ছাড়িয়ে জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। হলফনামা দিয়ে শীর্ষ আদালতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে ডিএ দেওয়ার মতো বিপুল অর্থ রাজ্যের কাছে নেই। ভাঁড়ারে টান পড়বে। অন্য প্রকল্প গুলো চালাতে অসুবিধা হবে। তাহলে, এবার শ্রমশ্রীর অর্থ কি ভাবে দেবে রাজ্য ? সোমবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পের ঘোষণার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন বিরোধীরা। বিস্ময় প্রকাশ করেছে যৌথ সংগ্রামী মঞ্চও।
অবশ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্ব্যার্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে পরিযায়ী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হবে। তাঁরা ফিরে ‘শ্রমশ্রী’তে আলাদা করে নাম নথিভুক্ত করলে সরকারি সাহায্য পাওয়া যাবে। একবছর কাজের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে শ্রমিক পরিবারের জন্য ৫০০০ টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার। সেইসঙ্গে স্বাস্থ্যসাথী, খাদ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা এবং ‘উৎকর্ষ বাংলা’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে তাঁদের। ভিনরাজ্যে কর্মরত বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের অত্যাচারের হাত থেকে মুক্তি দিতে কার্যত কল্পতরু হলেন মুখ্যমন্ত্রী। অনেকে বলছেন, আসলে ভোটের রাজনীতি করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। পরিয়ায়ী শ্রমিক ইস্যুতে চাপে রাজ্য সরকার। তাই পরিয়ায়ী ক্ষোভে মলম দিতে এই প্রকল্প চালু করা হল। যদিও শাসক দলের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে মানবিক কারণে পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। কিন্তু রাজ্যকে আর্থিক সংকটে ফেলে আর কতদিন এই ধরণের খয়রাতি রাজনীতি চলবে ?
