ওঙ্কার ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। তার আগেই বাংলার নয়া রাজ্যপাল হিসাবে শপথ নিলেন রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে লোকভবনে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক ব্যক্তিত্ব। তবে আশ্চর্যজনক বিষয়, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, এমনকি বিজেপির কোনও সদস্যকেও নয়া রাজ্যপালের শপথ অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি।
কয়েকদিন আগেই বাংলার রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দেন সিভি আনন্দ বোস। এরপরে রবীন্দ্র নারায়ণ রবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল থাকাকালীন একাধিক ইস্যুতে ডিএমকে সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন আরএন রবি। এমনকি রবিকে রাজ্যপাল পদ থেকে সরানো নিয়ে একাধিকবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে দরবারও জানায় ডিএমকে। এই অবস্থায় এবার বাংলার রাজ্যপাল হিসাবে শপথ নিলেন তিনি।
সিভি আনন্দ বোসের ইস্তফা, রাতারাতি নতুন রাজ্যপাল নিয়োগ নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। ভোটের আগে কেন রাজ্যপাল পরিবর্তন করা হল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সেই বিতর্কের আবহেই বৃহস্পতিবার শপথ নিলেন নয়া রাজ্যপাল রবীন্দ্রনারায়ণ রবি।
বুধবার, রাজভবনের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠি লেখেন প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সেখানে এই রাজ্যকে তাঁর ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ উল্লেখ করে ‘পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে যুক্ত’ থাকার কথা লেখেন বোস। গান্ধীজির বাণী উদ্ধৃত করে বলেন, ‘আমি বাংলা ছেড়ে যেতে পারছি না, আর বাংলা আমাকে ছেড়ে যেতে দেবে না’। এই কথা নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছেন। শুধু জল্পনা নয়, এই চিঠি প্রমাণ করে, সময় থাকা সত্বেও তাঁকে জোর করেই ইস্তফা দিতে বাধ্য করেছে বিজেপি সরকার। তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল থাকাকালীন ডিএমকে সরকারের সঙ্গে বার বার সংঘাতে জড়ানো প্রাক্তন আইপিএস আর এন রবিকে পাঠানোর পিছনে কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে বলে সরব হয়েছে তৃণমূল।
