ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর শেষ হওয়ার পর প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ঘিরে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ ও সংলগ্ন এলাকায়। বিশেষ করে মতুয়া অধ্যুষিত অঞ্চলগুলিতে বহু বাসিন্দার দাবি, যাচাই প্রক্রিয়ার জেরে তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বা ‘ডিলিটেড’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন কর্মসূচি চালানো হয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা, নথিপত্র যাচাই এবং শুনানির মাধ্যমে তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি। তবে বনগাঁ মহকুমার বিভিন্ন বুথে বহু ভোটারকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগ, প্রায় দুই লক্ষ মানুষের নামে নোটিস গিয়েছিল, যার মধ্যে বড় অংশই মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। অনেকেই সময়মতো শুনানিতে উপস্থিত হতে পারেননি কেউ নোটিস পাননি, কেউ কর্মসূত্রে বাইরে ছিলেন, আবার কারও দাবি, প্রক্রিয়া সম্পর্কে যথেষ্ট স্পষ্ট ধারণা ছিল না।
চূড়ান্ত তালিকায় একাংশের নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ বা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ উল্লেখ থাকায় বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে। ‘ডিলিটেড’ মানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম আপাতত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, আর ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ মানে বিষয়টি এখনও বিচারাধীন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপত্তি জানিয়ে পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবেন। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় বহু প্রকৃত ভোটার সমস্যায় পড়বেন।
মতুয়া সম্প্রদায় ঐতিহাসিকভাবে উদ্বাস্তু পটভূমির সঙ্গে যুক্ত। ফলে নাগরিকত্ব ও নথিপত্র সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বরাবরই সংবেদনশীলতা রয়েছে। সাম্প্রতিক এই তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া সেই উদ্বেগকেই নতুন করে উস্কে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এলাকায় চায়ের দোকান থেকে বাজার সব জায়গাতেই এখন একটাই আলোচনা, “নাম আছে তো?”
রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। শাসকদলের অভিযোগ, বৈধ ভোটারদের নাম অযথা বাদ দেওয়া হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, তালিকা নির্ভুল করতে কঠোর যাচাই প্রয়োজন ছিল এবং তা নিয়ম মেনেই হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াই আইনসম্মত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে বনগাঁর বিভিন্ন এলাকায় ভোটাররা স্থানীয় নির্বাচন দফতর ও অনলাইন পোর্টালে নিজেদের নাম খুঁজে দেখছেন। যাঁদের নাম নেই বা মুছে গেছে বলে দেখা যাচ্ছে, তাঁরা দ্রুত সংশোধনের জন্য আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে সংশোধনের সুযোগ থাকলেও মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তার আবহ কাটছে না।
