ওঙ্কার ডেস্ক: পূর্ব বর্ধমান থেকে গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজন জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি মহম্মদ হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসছে। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স-এর তদন্তে জানা গিয়েছে, হাওড়ার পিলখানা এলাকায় একটি ছোট দোকান ও পোশাক কারখানায় কাজ করার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে সে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের গতিবিধির উপর নজরদারি চালাত। তদন্তকারীদের দাবি, বিশেষভাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চলাফেরা, কর্মসূচি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করাই ছিল তার অন্যতম লক্ষ্য।
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি চক্রের সঙ্গে হামিমের যোগাযোগ গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে সে জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং বিদেশে থাকা হ্যান্ডলারদের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে একটি স্লিপার সেল গড়ে তোলার দায়িত্ব পায় বলে অভিযোগ। সেই নির্দেশ মেনেই সে নিজের পরিচয় গোপন রেখে হাওড়ায় কাজ শুরু করে। তদন্তকারীদের মতে, ওই দোকান ও কারখানায় কাজ করার ফলে এলাকার মানুষের কাছে সন্দেহের উদ্রেক না করেই সে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যাতায়াত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। এসটিএফ সূত্রের দাবি, হাওড়ায় থাকার সময় শুভেন্দু অধিকারীর বিভিন্ন সভা, সফর, কনভয়ের রুট এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠাত হামিম। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে নিয়মিত পাকিস্তানভিত্তিক যোগাযোগকারীদের সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদান করত সে। তার মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস থেকে একাধিক চ্যাট, যোগাযোগের নথি এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, হামিম শুধু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেই নয়, আরও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং পুলিশ কর্তাদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছিল। এছাড়াও পুলিশের পোশাক ও আধাসামরিক বাহিনীর ইউনিফর্ম সংগ্রহের চেষ্টার প্রমাণও তদন্তে মিলেছে। নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশের উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামিমের আর্থিক লেনদেন, বিদেশি যোগাযোগ এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্ক অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হত। বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সে যোগাযোগ রাখত, যাতে গোয়েন্দাদের নজর এড়ানো যায়। তদন্তকারীরা এখন তার সমস্ত যোগাযোগের উৎস, আর্থিক সহায়তার পথ এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।