ওঙ্কার ডেস্কঃ ভোটমুখী বাংলায় এসআইআর আবহে কোণঠাসা বিজেপি। প্রমাণ মিলল গড়বেতায়। রবিবার থেকে শুরু হয়েছে পদ্মশিবিরের পরিবর্তন যাত্রা। নির্বাচনের আগে দলের কর্মীদের চাঙ্গা করতে বিজেপির মেগা কর্মসূচি। গড়বেতায় পরিবর্তন যাত্রার সূচনা সভাতে মাঠে ভিড় সেই অর্থে হয়নি।
সূচনাসভার আগে স্থানীয় সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার কথা ছিল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের। কিন্তু মন্দিরের রাস্তার দেওয়ালে দেওয়ালে ছিল বিজেপি বিরোধী পোস্টার। কোথাও লেখা, ‘যতই করো পরিবর্তন যাত্রা, এটাই বিজেপির শেষ যাত্রা।’ কোথাও আবার লেখা, ‘পাপের ঘড়া পূর্ণ, ছাব্বিশে বিজেপি পাবে শূন্যভ’, ‘বাঁচতে চাই, চলো বিজেপি তাড়াই।’
বিজেপি বিরোধী পোস্টার ফেস্টুনের কারণেই আর মন্দির মুখো হননি শুভেন্দু অধিকারী। গোটাকয়েক বিজেপি সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় সর্বমঙ্গলা মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়ে এসেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
গড়বেতায় রবিবারের সভায় শুধুই যে মাঠ ফাঁকা ছিল তা নয়, সেই উচ্ছ্বাস ছিল না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সেই চেনা চিরাচরিত জয় শ্রী রাম ধ্বনির বদলে শোনা গিয়েছে ‘জয় জগন্নাথ’, ‘জয় মা কালী’, ‘জয় সর্বমঙ্গলা’ ধ্বনি। যদিও সেই একই রকম ভাবে শুভেন্দু অধিকারী, ধর্মেন্দ্র প্রধানরা তৃণমূলের সমালোচনা করেছেন। আগামী মে মাসে ডবল ইঞ্জিন সরকার হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন। শুভেন্দুর দাবি, ১০ লক্ষ কোটি টাকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ্যবকে দিয়েছেন। কিন্তু রাজ্যি টাকা লুঠ করেছে।
বিজেপিশাসিত রাজ্যে ভাতা চালু থাকলেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেছেন, ভাতা চাই না চাকরি চাই। আর শুভেন্দু বলেছেন, ভাতার পাশাপাশি কর্মসংস্থান চান। ফলে সভায় আসা মানুষও বুঝতে পারেননি বিজেপি ঠিক কী বলতে চায়।
এই বিষয়ে তৃণমূলের স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্যি অসীম ওঝা জানান, এসআইআরে যে হারে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাতে এবারের নির্বাচনে বিজেপি উচিত শিক্ষা পাবে। এই পরিবর্তন যাত্রাটাই হবে বিজেপির শেষযাত্রা।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, যে বিরোধী দলনেতা মমতার এসআইআরের বিরোধিতার বিরুদ্ধে বাড় বাড় আওয়াজ তুলেছেন, সভামঞ্চে সেই শুভেন্দু অধিকারীকে এসআইআর নিয়ে একটি বাক্যাও ব্যেয় করতে দেখা যায়নি।
