স্পোর্টস ডেস্ক : এটাই মেসি… এটাই ফুটবলের জাদু ! ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। সবকিছু যখন শেষ হয়ে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছিল, তখনই আবির্ভাব লিওনেল মেসির।
অধিনায়কের অনুপ্রেরণায় মাত্র ১৪ মিনিটে ৩ গোল করে অবিশ্বাস্যভাবে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা!
অসম্ভবকে সম্ভব করার নামই যেন মেসি। বড় মঞ্চে, কঠিন মুহূর্তে, আবারও তিনি দেখিয়ে দিলেন কেন তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা বলা হয়।
যে ম্যাচ হারতে বসেছিল, সেই ম্যাচই হয়ে গেল বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় প্রত্যাবর্তন।
ম্যাচের শুরু থেকেই ঝড় তোলে স্কালোনির ছাত্ররা। তবে অবশ্যই বিপক্ষকে মেপে এবং বুঝেশুনে আক্রমণ তৈরি করতে থাকে তারা। কিন্তু খেলার গতির বিপরীতে একটি গোল হয় ম্যাচের ১৫ মিনিটে। ইজিপ্টের হয়ে হেড থেকে গোল করে যান ইয়াসির ইব্রাহিম। তবে খেলার ১৯ মিনিটে, আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকোকে পেনাল্টি বক্সের ভিতরে ফাউল করেন ইজিপ্ট রক্ষণভাগের ফুটবলার হাইসেম হাসান। সঙ্গে সঙ্গে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। তবে ম্যাচের ২১ মিনিটে, সেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। এরপর একটি ভালো আক্রমণ তুলে আনে তারা। তবে সেটি সেভ করেন মোস্তাফা শোবেইর।ম্যাচের ৩১ মিনিটে, মেসির ফ্রি-কিক বারপোস্টে লাগে। তারপর ৩৮ মিনিটের মাথায়, তাঁর শট অনেকটাই বাইরে দিয়ে চলে যায়। খেলার ৩৯ মিনিটে, আবার একটি সেভ করেন ইজিপ্ট গোলকিপার। কিন্তু চেষ্টা জারি রাখে আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধের ৫১ মিনিটে, মিস করেন লিয়েন্দ্রো পেরেদেস। খেলার ৫৭ মিনিটে আবার আলভারেজের শট রুখে দেন ইজিপ্ট গোলকিপার। এরপর ৬১ মিনিটের মাথায়, ম্যাক অ্যালিস্টারের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে, আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামেন নিকো গঞ্জালেজ। কিন্তু ৬৭ মিনিটে, আবার গোল। মোস্তাফা জিকোর গোলে তখন ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ইজিপ্ট। প্রায় ম্যাচ তখন হাতের বাইরে। কিন্তু সেই বিশেষণ ছোট দলের জন্য প্রযোজ্য, বড় দলের জন্য নয়।

৮৩ মিনিটে, লিওনেল মেসির বাঁ পায়ের শট ইজিপ্ট গোলকিপারকে পরাস্ত করে সোজা জালে জড়িয়ে গেল এবং সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারি জুড়ে শুরু সেলিব্রেশন। লড়াই করে কামব্যাক আর্জেন্টিনার।ম্যাচের ৯৩ মিনিটে, দ্রুত আক্রমণ তুলে আনে তারা। ঠিকানা লেখা ক্রস তোলেন লাউতারো মার্টিনেজ এবং সেই বলে বিধ্বংসী হেড করে দলের জয় নিশ্চিত করেন এনজো ফার্নান্দেজ। খেলার ফলাফল তখন ৩-২। তবে এই খেলার শেষদিকে এসে, হারতে থাকা ইজিপ্টের বেপরোয়া আচরণ এবং লাল কার্ড দেখান রেফারি। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা দলে পরিবর্তন আসে। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর জায়গায় নামেন নিকোলাস ওটামেন্ডি এবং জুলিয়ান আলভারেজের পরিবর্তে মাঠে আসেন ফাকুন্ডো মেডিনা।চলতি বিশ্বকাপে তাঁর সেই দাপুটে ফর্ম এবং হাসি। সব ম্যাচেই দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন মেসি। এই ম্যাচেও করলেন। বিপক্ষ ডিফেন্সকে একেবারে নাস্তানুবাদ করে ছাড়লেন। দুরন্ত গতির মুভ, কাট করে ভিতরে ঢুকেই আক্রমণ। লিওনেল মেসি আসলেই ম্যাজিশিয়ান।