ওঙ্কার ডেস্ক : শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই প্রথম শুরু হচ্ছে দুদিনের ত্রিপাক্ষিক বৈঠক। উপস্থিত থাকছে রাশিয়া, আমেরিকা ও ইউক্রেন। চলতি পরিস্থিতিতে এক্কেবারে চুপ থাকার চেয়ে এই আলোচনা নিয়ে খানিকটা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। বৃহস্পতিবার দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে তাঁর বক্তৃতার পর একটি প্যানেল আলোচনায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ঘোষণা করেন, ইউক্রেন, আমেরিকা এবং রাশিয়ার মধ্যে কারিগরি পর্যায়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ২৩ এবং ২৪ জানুয়ারী সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, এটি ইউক্রেন, রাশিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে প্রথম ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হবে এবং আশা করেন যে এটি যুদ্ধের অবসান ঘটাবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘন্টাখানেকের বৈঠকের পর তাঁর যে মন্তব্য সামনে এসেছে তাতে বোঝা যাচ্ছে, তাঁদের মধ্যে আলোচনা আশাপ্রদ। জেলেনস্কি বলেছেন, বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রতিনিধি দলের একটি বৈঠক হয়। এরপর আমেরিকার দল রাশিয়া যাবে। তিনি বলেন, “আমাদের লোকেরা আজ মার্কিনিদের সঙ্গে বৈঠক করছে, এরপর তারা আজ রাতে রুশদের সঙ্গে বৈঠক করছে। আমি জানি না, হয়তো পুতিন ঘুমাচ্ছেন, আপনি বলেছিলেন যে কেউ জানে না তাঁর মাথায় কী আছে।” জেলেনস্কি আরও বলেন, “রাশিয়ানদের আপসের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত”। তিনি বলেন, “আপনি জানেন, সকলেরই প্রস্তুত থাকা উচিত, কেবল ইউক্রেন নয়, এবং এটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা দেখব ফলাফল কী হবে।”
তবে, ইউক্রেনীয় নেতা আলোচনার ফর্ম্যাট বা কর্মকর্তারা সরাসরি আলোচনা করবেন কিনা সে সম্পর্কে কোনও কথা বলেননি। তিনি জানিয়েছেন,”ইউরোপের ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজন, এমন বাহিনী যারা আজ সত্যিকারে ইউরোপকে রক্ষা করতে পারে। ইউরোপ কেবল এই বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে যে বিপদ এলে ন্যাটো পদক্ষেপ নেবে, কিন্তু কেউই জোটকে বাস্তবে কার্যকর হতে দেখেনি। এই মুহূর্তে ন্যাটোর অস্তিত্ব এই বিশ্বাস করে যে আমেরিকা পদক্ষেপ নেবে। তারা একপাশে থাকবে না। সাহায্য করবে। কিন্তু যদি না করে তাহলে কী হবে? বিশ্বাস করুন, এই প্রশ্নটি প্রতিটি ইউরোপীয় নেতার মনে সর্বত্র ঘুরপাক খাচ্ছে।”
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন যে ইউক্রেন গ্রিনল্যান্ডের কাছে রাশিয়ার জাহাজ ডুবিয়ে দিতে ন্যাটোকে সাহায্য করতে পারে। তাঁর কথায়, “আমরা জানি কী করতে হবে। যদি রাশিয়ান যুদ্ধজাহাজ গ্রিনল্যান্ডের কাছে অবাধে চলাচল করে, তাহলে ইউক্রেন সাহায্য করতে পারে। আমাদের কাছে এমন দক্ষতা এবং অস্ত্র রয়েছে যাতে নিশ্চিত করা যায় যে ওই জাহাজগুলির একটিও অবশিষ্ট থাকবে না। তারা গ্রিনল্যান্ডের কাছে ডুবে যেতে পারে ঠিক যেমন তারা ক্রিমিয়ার কাছে ডুবে যায়।” তাঁর সাফ কথা, “আমরা জানি কিভাবে সেখানে লড়াই করতে হয়।
