ওঙ্কার ডেস্ক: গুজরাতের রাজকোট থেকে ১৫০০ কোটি সাইবার প্রতারণা মামলায় আরও তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই মামলায় এর আগে ছয় জনকে গ্রেফতার করেছিল গুজরাত পুলিশ। এই তিন গ্রেফতারী নিয়ে মোট নয় জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এখনও ইয়াগনিক জালাভারিয়ার নামের একজনের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কোনো নাম আছে কিনা তানিয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এই প্রতারণা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে সন্দেহের সূত্রপাত হয় একটি সাধারণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক অঙ্কের টাকা জমা পড়াকে কেন্দ্র করে। প্রায় ২৩ কোটি টাকার লেনদেন নজরে আসতেই তদন্ত শুরু হয়। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে সামনে আসে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতির চক্র। তদন্তে উঠে এসেছে, বিভিন্ন ব্যক্তির নামে খোলা তথাকথিত ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’-এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলা হত, যাতে টাকার উৎস গোপন রাখা যায়।
এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে গুজরাটের রাজকোট থেকে কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি তেলেঙ্গানার বাসিন্দা এক অভিযুক্তকেও আটক করা হয়েছে। তদন্তে একাধিক রাজ্যের যোগসূত্র মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে অনুমান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অর্থ ঘোরানো হত। পাশাপাশি এই চক্রের দৌরাত্ব বিদেশের বিভিন্ন জাইয়ায় আছে বলে প্রমাণ মিলেছে।
তদন্তকারীদের মতে, প্রতারকরা সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বা ভুয়ো অনলাইন বিনিয়োগ, লটারি কিংবা ডিজিটাল প্রতারণার ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নিত। পরে সেই অর্থ দ্রুত। একাধিক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত করা হত। অনেক ক্ষেত্রেই অ্যাকাউন্টধারীরা সামান্য কমিশনের বিনিময়ে নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে দিতেন, যদিও তারা পুরো চক্রের ব্যাপারে অবগত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজস্থান পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্ক লেনদেনের নথি, মোবাইল ফোন এবং ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও বড় মাথাদের সন্ধান মিলতে পারে বলে অনুমান তদন্তকারীদের।
