ফের সংঘাতে মণিপুর
ফের উত্তাপ বাড়ছে মণিপুরে। এবার কুকি আর মেইতেইদের মধ্যে নয়। অসহিষ্ণুতা বাড়ছে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে। গত তিন বছর ধরে যে শান্তি প্রক্রিয়ার চেষ্টা চলছে তাতে মণিপুরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে কুঠারাঘাত। এটা চলতে থাকলে অচিরেই জাতিগত বিভাজনের লেলিহা তুঙ্গে উঠবে। গত সপ্তাহের শেষের দিকে যে ভাবে হিংসা ছড়াতে দেখা গেছে তাতে এই আশঙ্কা অমুলক নয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মণিপুরের তিনটি জেলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মানুষ। ফলে ২০২৩-এ মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল এবার তা কুকি ও নাগাদের মধ্যে ছড়াচ্ছে।
সেবছর মে মাসে একটি বিচার বিভাগীয় নির্দেশনামার পর থেকে এই সংকট তীব্র আকার নিয়েছিল। ওই নির্দেশনামায় তৎকালীন রাজ্য সরকারকে মেইতেইদের জন্য ‘তফসিলি উপজাতি’ মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছিল। এর ফলে মেইতেইরা চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে সেই কোটা বা সংরক্ষণের সুবিধা পেত যা আগে শুধুমাত্র তফসিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। তখন থেকে এই হিংসার সূত্রপাত। যার জেরে ৩০০ জন নিহত এবং ৬০,০০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। রাজ্যটি এখন এমন ভাবে বিভক্ত যে,যার কিছু এলাকা মেইতেইদের জন্য নিষিদ্ধ। অন্য কিছু এলাকায় কুকিদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। এবার সংঘাত শুরু হয়েছে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যেও।
কেন্দ্র ও রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার এইও সংঘাতের ঘটনাটি মায়ানমারের সীমান্তবর্তী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে। কিন্তু মণিপুর ও ভারতের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য তা ঠিক হচ্ছে না। মায়ানমারের বৈরী গোষ্ঠীগুলোর অস্তিত্ব মানতেই হবে। এই বাস্তবতা না মানলে মণিপুরে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা মেটাতে ব্যর্থতার দায় শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের ওপরই বর্তায়।