অর্পিতা মুখার্জী: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় গরমিলের অভিযোগ তুলে মধ্য দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের বড় জমায়েত চলছে রবিবার। মঞ্চে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এম এ বেবি, তেজস্বী যাদব-সহ বহু বিরোধী নেতা রয়েছেন। ইতিমধ্যেই মঞ্চে বক্তৃতা দিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়,অখিলেশ-সহ অনেকেই। অন্যদিকে একই সময়ে রাজধানীতে পাল্টা কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। ১৯৮৪-র শিখ বিরোধী দাঙ্গা তুলে কংগ্রেসকে নিশানা করেছে গেরুয়া শিবির।
বিরোধীদের এই “চলো দিল্লি” কর্মসূচির মূল দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এ ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। শনিবারই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে ৬ দফা অভিযোগ তুলে একটি প্রতীকী প্রস্তাব আনেন। সেখানে বলা হয়, সিইসি নির্বাচন প্রভাবিত করতে ষড়যন্ত্র করেছেন, ১৩.২ কোটি ভোটারের নাম বাদ দিয়েছেন, সংসদকে এড়িয়ে ফর্ম ৬ বদলেছেন এবং ইসিনেটের মাধ্যমে ভোটার তালিকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।
এই সমাবেশের জন্য প্রশাসনের অনুমতি বিকেল ৫টা পর্যন্ত রয়েছে। তবে ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই কর্মসূচি শেষ হবে কিনা, সেটাই এখন। এদিন ভোর থেকেই মাঠ ভরাতে শুরু করেছিলেন বিজেপি-বিরোধী কর্মীরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই জমায়েত আরও বেড়েছে। কয়েকটি সূত্রের দাবি, কংগ্রেস উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা থেকেও কর্মী এনেছে। সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি-ও নিজেদের ক্যাডার এনেছে। তবে সমাবেশের মূল শক্তি বাম ক্যাডাররা।
অন্যদিকে বিজেপি এই কর্মসূচিকে “নাটক” বলে কটাক্ষ করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার কটাক্ষ, “এটা গণতন্ত্রের প্রতি অসম্মান, পরিকল্পিত নাটক। নৈরাজ্য তৈরির ষড়যন্ত্র। জনতা এই রাজনৈতিক থিয়েটার বোঝে।” কংগ্রেসের কে সি বেণুগোপাল পাল্টা বলেন, “চলো দিল্লি, ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও। একের পর এক রাজ্যে ভোটার তালিকায় বড় জালিয়াতি হচ্ছে। রাহুল গান্ধী নির্ভয়ে প্রশ্ন তুলছেন।”
তবে এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে ক্ষতির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা। রামলীলা ময়দানের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে চাঁদনি চক, সদর বাজার, দরিয়াগঞ্জ, মোরি গেট, কাশ্মীরি গেটের মতো বড় পাইকারি বাজার। দীপাবলির আগে কেনাবেচার মরশুমে রাস্তা বন্ধ, যানজটে ক্রেতা আসবে না বলে অভিযোগ। অটোমোটিভ পার্টস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিনয় নারাং বলেন, “আমরা প্রতিবাদের বিরোধী নই, কিন্তু সময় ও জায়গা ভুল। এই ধরনের সমাবেশ হলে বাইরের ব্যবসায়ীরা ৩ দিন আগে-পরে দিল্লি এড়িয়ে চলেন।”
যদিও রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, “প্রতিবাদ করুন, মিছিল করুন, আর সঙ্গে একটু কেনাকাটাও করুন। ব্যবসায়ীদের লাভ হবে। এই সমাবেশে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হবে না, বিজেপি ভয় পেয়ে গুজব ছড়াচ্ছে।”