রাজধানীর বুকে বিশাল জমায়েতকে অক্সিজেন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় বিরোধীরা। রবিবার দুপুরে রামলীলা ময়দান ও তার আশপাশে যতদূর চোখ যায় শুধু মানুষের ঢল। কেউ দলীয় কর্মী, কেউ সাধারণ নাগরিক। সবার একটাই দাবি, ভোটচুরির অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। বিকেল গড়িয়ে আলো কমে এলেও ভিড়ে ভাটা পড়েনি। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়েই আন্দোলনের ব্যাটন কংগ্রেসের হাতে নয়, যুব প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার বার্তা দিলেন তৃণমূলনেত্রী তথা বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঞ্চে উঠেই জ্ঞানেশ কুমার ও বিজেপিকে এক বন্ধনীতে রেখে আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর ভাষায়, “ভ্যানিশ কুমার, আপনি ভোট ভ্যানিশ করে দিয়েছেন। মানুষের চাকরি, ভোটাধিকার, জীবন সব লুট করেছেন। আগে ভ্যানিশ হটাও, তারপর অন্য কাজ।” পশ্চিমবঙ্গে ভোট লুটের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “আমি তো হারিনি, আমাকে হারানো হয়েছে। এখন আমাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে।” বক্তব্যের শেষে তাৎপর্যপূর্ণভাবে তিনি বলেন, “যুব প্রজন্ম নেতৃত্ব দিন, আমরা গাইড করব।”
এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ কারণ ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে বাংলায় বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। ভরাডুবির পর সরকার গড়েছে বিজেপি, মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। একদা শাসক শিবির ভেঙে খানখান, বহু নেতা-কর্মী দল ছেড়েছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এখন অনেকটাই ব্যাকফুটে মমতা। ইন্ডি জোটের অন্দরেও তাঁর দাপট কমেছে, হুডখোলা গাড়িতে প্রথম সারি থেকে তৃতীয় সারিতে নেমে আসা তারই প্রতীক বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সেই জায়গা থেকে দিল্লির মঞ্চে যুব নেতৃত্বের হাতে ব্যাটন তুলে দিয়ে নিজের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করলেন দিদি।