অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: রামলীলা ময়দানের বিরোধী মঞ্চ থেকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একসঙ্গে তোপ দাগলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। রবিবার তিনি বলেন, “আমরা অহিংসাবাদী। নরেন্দ্র মোদী কিংবা অমিত শাহ আমাদের শত্রু নন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তুমি যেই হও, সংবিধানের থেকে বড় নও।”
‘ভোটচুরি’র পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাহুলের দাবি, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে সাড়ে ১৩ কোটি ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ প্রতি সাতজন ভোটারের মধ্যে একজন। এনডিএ ও ইন্ডিয়া জোটের ভোটের ফারাক ছিল মাত্র ৩ শতাংশ, তাই এনডিএ-র জয় মিথ্যা এবং মোদীর তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়া বেআইনি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ইভিএমে কারচুপি করেও ভোটচুরি হয়েছে এবং এই কাজে গেরুয়া শিবিরের হয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
রাহুল বলেন, “২০২৪-এর মতোই মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, ছত্তীসগড়, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক এবং পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটেও ভোটার বাদ দিয়ে ও ইভিএমে কারচুপি করে জিতেছে বিজেপি। বেশ কয়েক বছর ধরে দেশে ভোটচুরি হচ্ছে, ভোটার তালিকায় নাম ঢুকিয়ে ও কেটে দিয়ে এই চুরি করা হয়েছে।” এরপরই সবচেয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি, “আমার কথা শুনে রাখুন। আমি যা বলি, পরে তা সত্যিই হয়। নয় কি? আমি দেশের প্রতিটি মানুষকে, প্রত্যেক যুবককে বলছি, জ্ঞানেশ কুমারকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরানো হবে। জ্ঞানেশ কুমার জেলে যাবেন। জ্ঞানেশ কুমারকে ছাড়া নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না, অমিত শাহও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারবেন না। বেচারা রাতে ঘুমোতে পারছে না, কিন্তু ইস্তফা দিতেই হবে।”
ভবিষ্যৎ নিয়ে হুঙ্কার দিয়ে রাহুল আরও বলেন, “অমিত শাহজি বলেছিলেন, নরেন্দ্র মোদী কোথাও যাবেন না। আমি আপনাদের উল্টোটা বলছি, নরেন্দ্র মোদী কোথাও যেতে পারবেন না। যদি তিনি যেতেও চান, আমরা তাঁকে যেতে দেব না। জ্ঞানেশ কুমারের পর তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।” শেষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমরা নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ কিংবা জ্ঞানেশ কুমারকে ঘৃণা করি না। আমরা অহিংসায় বিশ্বাসী। আমার কাছে তাঁরা শত্রু নন। কিন্তু দেশের মানুষের কণ্ঠস্বর আমার কাছে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটাই আমার ধর্ম। আমরা হিংসায় জড়াব না, কারও ক্ষতি করব না, ঘৃণাও ছড়াব না। কিন্তু দেশের সংবিধানকেও ধ্বংস হতে দেব না।”