নিরামিষ-আমিষ বিতর্কে যখন রাজ্য-রাজনীতি তোলপাড় তখনই কালীঘাট মন্দিরে পুজো সেরে মাছ দিয়ে ভোগ খেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মাটিতে বসে ভোগের বাসন্তি পোলাও, মাছের মাথা, মাছ ভাজা দিয়ে খাওয়া সারলেন তিনি। এক কথায়, নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন নিজেই।
গতকাল, বৃহস্পতিবার ছিল কৌশিকী অমবস্যা। কালীঘাট মন্দিরে জবার মালা, লাল বেনারসি শাড়ি দিয়ে মায়ের পুজো দেন মুখ্য়মন্ত্রী। মা কালীর পা ধুয়ে দিয়ে অঞ্জলি দেন। আরতিও করেন। এরপর মন্দিরে বসেই ভোগের প্রসাদ গ্রহণ করেন। আর সেখানেই যত বিতর্কে কার্যত জল ঢালেন তিনি। মাছের মুড়ো, মাছ ভাজা এবং বাসন্তি পোলাও সহযোগে ভোগ সারেন মুখ্যমন্ত্রী।
গতকাল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর জানিয়েছিলেন, ‘একজন সন্ত বাবা নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। যার গ্রহণ করার করবে, না করার করবে না। আমি নিজে অষ্টমীর দিন সাত্বিক আহার খাই। কার্তিক মাসেও সাত্বিক আহার গ্রহণ করি। আবার মায়ের মাছের ভোগও গ্রহণ করি। পাঠা বলির প্রসাদও গ্রহণ করি। আজ দুপুরে মন্দিরে যা ভোগ দেওয়া হয়েছিল, মাছের মাথা, মাছ ভাজা ছিল, বাসন্তি পোলাও খেয়েছি। সনাতন সংস্কৃতি জাগ্রত থাকবে। গেরুয়া ধ্বজ সবসময় উপরে থাকবে। কখনও নিচে নামবে না।’
বলে রাখা ভালো, বঙ্গে আমিষ বিতর্কের মধ্যেই ফের মুখ খুলেছেন মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর বাবা। স্কটল্যান্ডে বসে তিনি জানিয়েছেন তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘সব জীবের বাঁচার অধিকার আছে। আমার বলিপ্রথা ভালো লাগে না। কিন্তু কারও খাদ্যাভাস বদলানোর আমি কে? আমার মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কেউ তার বাড়িতে মাছ-মাংস খেতেই পারে, সেটা তার সিদ্ধান্ত। আমি প্যান্ডেলে মাছ-মাংস খেতে বারণ করেছি।’ এরপরেই নিজেকে বাঙালি পরিচয় দিয়ে তাঁর সংযোজন, ‘ভুল বুঝবেন না। আমিও বাঙালি, বিবেকানন্দ-রামকৃষ্ণের শিষ্য। আমি শুধু ধার্মিক হিসেবে মণ্ডপে মাছ-মাংস নিতে বারণ করেছি।’