অঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, ওঙ্কার বাংলা: বিশ্বকাপের টিকিট বণ্টন থেকে শুরু করে ক্রিকেটারদের বয়স ভাঁড়ানো, বৃহস্পতিবার কাশীপুর বেলগাছিয়ার বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি অভিযোগ করলেন, বঙ্গ ক্রিকেট প্রশাসনে অনেক দুর্নীতি হচ্ছে। বয়স ভাঁড়িয়ে নির্বাসিত ক্রিকেটারদের সিএবির বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্বীকৃতি পেতে দেখে রীতেশ এদিন বিধানসভার প্রেস কর্নারে অভিযোগ করেছেন, সুয়ো মোটো মামলা করে তদন্ত করা উচিত।
সিএবি প্রেসিডেন্ট হিসাবে সৌরভও দায়িত্ব এড়াতে পারেন না বলে জানান রীতেশ। সন্ধ্যায় সিএবিতে সাংবাদিক বৈঠক করে সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বললেন,’রীতেশবাবুকে আমি বহুদিন চিনি। সেই ২০১৭ সাল থেকে। উনি ক্রিকেট ভালবাসেন। ময়দানের ক্রিকেটের খবর রাখেন। এই যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হয়েছিল, সেটা গত বছরের। এ বছরের তো নয়। বিসিসিআই এবার আধার আপডেট সিস্টেম চালু করেছে প্রথমবার। গত মাসের ২৭ তারিখ বিসিসিআই একটা বয়স যাচাই করার সেমিনার করে। সব রাজ্য সংস্থার প্রতিনিধি যায়। কেএমসি থেকেও অনেকে জাল বার্থ সার্টিফিকেট বার করে খেলেছে। বয়স ভাঁড়ানো সব খেলায় একটা সমস্যা। ফুটবল, ক্রিকেট – সব খেলায়। সিএবি-র স্বচ্ছ নিয়ম রয়েছে বয়স যাচাই নিয়ে। এই যে রোহিত যাদব বাদ পড়ল জাতীয় দল থেকে, সেটা কিন্তু বিসিসিআই বার করেনি। সিএবি বার করে। রোহিত ও রবি কুমারকে আমরা সম্ভাব্য দলে রাখেনি। শুধু এরা নয়, বহু প্লেয়ার যারা বয়স ভাঁড়িয়েছে, বাদ পড়েছে। প্রত্যেক বছর যাচাই হবে। সিএবির একটা ১০ জনের ভেরিফিকেশন সেল রয়েছে। যারা ধরা পড়ছে, তাদের খেলতে বারণ করা হচ্ছে। এতে ভুল নেই। অনূর্ধ্ব ১৬, অনূর্ধ্ব ১৯ ও অনূর্ধ্ব ২৩ বাংলা দলে একজন প্লেয়ারও নেই যার বয়স নিয়ে সমস্যা রয়েছে।’
বিশ্বকাপে কমপ্লিমেন্টারি টিকিট বণ্টন নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে সৌরভ বল্বন, ‘যা হয়েছে নিয়ম মেনেই হয়েছে।’ হাতে ধরা কাগজ দেখিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘বিসিসিআই হোক বা আইসিসি, সকলের একটা নিয়ম রয়েছে। সেটা মেনেই টিকিট বণ্টন হয়েছে। বিশ্বকাপে কমপ্লিমেন্টারি টিকিট থাকে না। আইপিএলেও কমপ্লিমেন্টারি টিকিট থাকে। প্রত্যেক সংস্থাকে নিয়ম মেনেই চলতে হয়। সামনে সিএবি এজিএম। এগুলো উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সিএবি বা আমি ব্যক্তিগতভাবে আইনি পদক্ষেপ করব। সকলকেই বোর্ড বা আইসিসির নির্দেশিকা মেনেই টিকিট কিনতে হয়। আর বুক মাই শো সিএবি-র সংস্থা নয়। আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গেই টিকিট বণ্টন করি। সামনেই সিএবি নির্বাচন বলে বিভিন্ন বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। কে বা কারা করছে, সেটা আমরা জানি। বিসিসিআই-ও জানে। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহও পুরোটা শুনে হতাশ। আমি ওঁকে জানিয়েই সাংবাদিক বৈঠক করছি। কারণ উনি জানেন গোটা বিষয়টা। ২০২৩ সালে টিকিট বণ্টন নিয়ে ময়দান থানায় এফআইআর হয়েছিল। আমার ভাবমূর্তি কেউ নষ্ট করতে পারবে না। সিএবির উপর আমার ভাবমূর্তি নির্ভর করে না।’