ওঙ্কার ডেস্কঃ আনন্দপুরের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন। ভোর রাত থেকে জ্বলছে আনন্দপুরের একটি গোডাউন। সোমবার বেলা ২ টো পর্যন্তও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। দমকল সূত্রে খবর, ভিতরে এখনও তিন জায়গায় পকেট ফায়ার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। তবে আগের তুলনায় এখন আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
আগুনে ঝলসে ইতিমধ্যেই ৩ জনের মৃ্ত্যুর খবর সামনে এসেছে। নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছে ক্রমেই। যে ৬ জন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন বলে শোনা গিয়েছে, তাঁদের এখনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। তারা গোডাউনে আটকে রয়েছেন, জীবিত আছেন কিনা, এ বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। তবে এ নিয়ে এখনও কিছু জানায়নি দমকল আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, এখনও দমকলের ১২টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে কাজ করছে। নিখোঁজ ৬ কর্মীর খোঁজ চালাচ্ছেন দমকল কর্মীরা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়িয়েছে নাজিরাবাদ এলাকায়।
সূত্রের খবর, সোমবার ভোররাতে, আনুমানিক ৩টে নাগাদ, আনন্দপুরের কাছে নাজিরাবাদের দুটি গুদামে আগুন লেগেছিল। একটি গোডাউন ছিল ডেকরেটার্সের। অন্যটি খাবার সংস্থার। ২টি গোডাউনেই আগুন ছড়িয়েছে। দুটি গোডাউনের বেশিরভাগ অংশ কার্যত ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। টিনের শেড ভেঙে দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় গোডাউনের পাশের মেস ও একটি বাড়ি খালি করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। ২টি গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গিয়েছে। এক নিখোঁজ ব্যক্তির নাম পঙ্কজ হালদার। তাঁর পরিবারের সদস্যদের দাবি গোডাউন থেকে ফোন করেছিলেন পঙ্কজ। জানিয়েছিলেন আগুন লেগেছে, আর বোধহয় বাঁচবেন না। বাঁচানোর আর্তি জানিয়েছিলেন। পঙ্কজ হালদারের ওই আত্মীয় জানিয়েছেন, সম্ভবত পঙ্কজের সঙ্গে ছিলেন আরও ৩ জন। এখনও তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি।
আনন্দপুরে কালো ধোঁয়ায় ঢেকেছে এলাকা, পোড়া গন্ধ, কঙ্কালসার কারখানার বাইরে এখন স্বজনহারাদের কান্না, এক রাশ উৎকন্ঠা নিয়ে নিখোঁজদের পরিজনদের ভিড়।
