ওঙ্কার ডেস্ক: বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর মন্তব্য নিয়ে হট্টগোলের মাঝে লোকসভায় পাস হয়ে গেল প্রশ্ন ফাঁস-বিরোধী বিল। ভবিষ্যতে প্রশ্ন ফাঁস রোধে কঠোর বিধান চালুর লক্ষ্যে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ বুধবার সংসদের নিম্নকক্ষে পাস হয়। এদিন লোকসভায় বিরোধী দলের সাংসদদের ওয়াকআউট এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে রাহুল গান্ধীর মন্তব্য ঘিরে সরগরম ছিল আইনসভার কক্ষ। তার মাঝেই এই বিলটি পাস হয়।
নিট ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয় দেশজুড়ে। তার পর এই বিলটি আনা হয়। বিরোধী বেঞ্চ থেকে তীব্র স্লোগান-পাল্টা স্লোগানের মধ্যেই বুদ্ধবার ধ্বনিভোটের মাধ্যমে বিলটি পাস করানো হয়। নতুন পাস হওয়া এই বিলে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার তদন্ত শেষ করার জন্য দুই মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে পরীক্ষায় অসৎ উপায় অবলম্বন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শাস্তি হবে ১০ বছরের জেল। ২০২৪ সালের আইনে এই শাস্তির মেয়াদ ছিল ৫ বছর। সেই সঙ্গে ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে বিলটিতে।
এ ছাড়া বিলটিতে বলা হয়েছে, তিন মাসের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করতে হবে। সংগঠিত অপরাধীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ বর্তমান আইনের সীমা থেকে বাড়িয়ে ১০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি নিট ইউজি প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ছাত্র বিক্ষোভের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত জালিয়াতি রোধে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। সেই ঘোষণার প্রেক্ষিতেই এদিন এই বিলটি আনা হল। মোদী বলেছিলেন, সংগঠিত জালিয়াতি চক্রের কারণে যাতে সৎ পরীক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের অবমূল্যায়ন না হয়, তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।