ওঙ্কার ডেস্ক: সার্কাসের খেলা দেখাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক যুবক। হরিয়ানার নুহ জেলায় ‘জীবন্ত সমাধি’র কসরত দেখাতে গিয়ে মৃত্যু হল ২৭ বছর বয়সী এক সার্কাস শিল্পীর। বুধবার পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, শ্বাসরোধের কারণেই সম্ভবত তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত সার্কাস শিল্পীর নাম দীপক। তিনি ফরিদাবাদের গাওঞ্চি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। এর আগেও বহুবার তিনি এই কসরতটি করেছিলেন। কিন্তু শেষবার এটি করার পরে আর জীবন্ত অবস্থায় ফিরে আসতে পারেননি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই খেলায় প্রথমে শিল্পীকে একটি বস্তায় ভরে জীবন্ত অবস্থায় মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়। এর তিন দিন পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন শিল্পী। পুলিশ জানায়, দীপককে যে গর্তে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল, সেখান থেকে বের করে আনার সময় তিনি কোনও সাড়া দিচ্ছিলেন না। তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি, সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন দীপককে। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। কোনও অনুমতি ছাড়াই কীভাবে এমন বিপজ্জনক খেলার আয়োজন করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রিপোর্ট অনুসারে নুহ জেলার তাউরু এলাকার খোরি গ্রামে একটি ফাঁকা জমিতে দীপকের পরিবার তাঁবু খাটিয়েছিল। সেখানেই ২৩ জুলাই এই কসরত দেখান তিনি। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, গর্তের ভেতরেই শ্বাসরোধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দীপকের পরিবারের লোকজন ঐতিহ্যবাহী সার্কাস শিল্পী। তাঁরা এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ঘুরে ঘুরে খেলা দেখান। প্রায় ১৫ বছর ধরে এই ধরনের কসরতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দীপক। জীবন্ত সমাধির কসরত শুরুর আগে তিনি দর্শকদের জন্য সাইকেল চালানোর বেশ কিছু কসরত দেখিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ‘জীবন্ত সমাধি’র কসরত ছিল। তাউরু সদর থানার আধিকারিক, রাজেশ কুমার বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে মাটির নীচে শ্বাসরোধকেই মৃত্যুর কারণ বলে মনে করা হচ্ছে, তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট হবে।’