জয়ন্ত সাহা, আসানসোল : বাবা পেশায় টোটো চালক। কোনোরকমে অভাবকে সঙ্গী করেই চলে সংসার। এই অবস্থায় দুবেলা খাবার জোগার করাটাই যেখানে বড়ো একটা চ্যালেঞ্জ, সেখানে উচ্চশিক্ষা বিলাসিতা বিনা আর কিছু না। কিন্তু পড়াশুনার খিদেও যে এক বড়ো খিদে। যা শুধু পেট নয় বরং নিজের ভবিষ্যতকে সমৃদ্ধও করে।
আর এমনই খিদের জ্বালায় পথে নামতে হল কলেজ ছাত্রীকে। তবে সৎ পথে পরিশ্রম করে পথে নেমে নিজেকে, নিজের ভবিষ্যতকে এবং পাশাপাশি নিজের পরিবারকেও সাবলম্বি করতে চায় সে। এই বিদুষী ছাত্রীর পরিচয়, পুজা রজক। আসানসোল মহিশীলা কলোনীর তিন নম্বরের বাসিন্দা। পড়াশোনার মধ্যে থেকে সময় বের করে আসানসোল শহরের প্রায় তিন কিলোমিটারের মধ্যে বাড়ি বাড়ি খাওয়ার ডেলিভারি করে সে। তাও আবার সাইকেল চালিয়ে। প্রায় একমাস ধরে এই পেশায় নিযুক্ত হয়েছে সে।

এই প্রসঙ্গে পূজা বলে, তার বাবা ও দাদা দুজনেই টোটো চালান, মা-ও কাজ করেন। তাই কলেজে যখন ক্লাস থাকে না, তখন কাজে বেরোয় সে। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ৩ টে পর্যন্ত কাজ করে সে।
“ আমাদের শিক্ষার মধ্যে এমন একটি সম্পদ থাকা চাই, যা কেবল আমাদের তথ্য দেয় না, সত্য দেয়; যা কেবল ইন্ধন দেয় না, অগ্নি দেয়”। পূজা রজকের এই জীবন কাহিনী যেন রবি ঠাকুরের এই লাইনগুলি আবারও মনে করিয়ে দিল।
