বিপ্লব দাশ : জাতীয় রাজনীতিতে বাঙালিদের কোনঠাসা করার প্রবণতা স্বাধীনোত্তর যুগ থেকেই। মূলত বাঙালি রাজনীতিকদের হাত ধরে জাতীয় কংগ্রেসের জন্ম হলেও, পরবর্তীকালে বাঙালিরাই সেখানে ব্রাত্য হয়ে ওঠে। আমরা সুভাষ বোসকে দেখেছি, প্রণব মুখোপাধ্যায়কেও দেখেছি। অন্তত এই দুটো উদাহরণ দিলে হিন্দিবলয়ের নেকনজর বদলায়নি। জ্যাতি বসুর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা যখন ভীষণ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল, তখনই বেঁকে বসে দিল্লির কম্যুনিস্ট নেতারা। বাংলার রাজনীতিতে এই হতাশা সেই প্রথম থেকেই। এবং সেই ট্রেডিশন এখনও চলছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনীতির টাগ অফ ওয়ার-এ অন্যান্য প্রদেশের চেয়ে বাংলা ভাগ্যে খুব একটা শিকে ছিঁড়তে দেখা যায় না। তাই বাংলার প্রতি ‘কেন্দ্রের বঞ্চনা’ এ রাজ্যে একটা অভিধানিক শব্দবন্ধ হয়ে উঠেছে বহুকাল আগেই। রাজনীতির পথ ধরে দেশে যে সব সংবিধানিক পদ রয়েছে তাতেও ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে খুঁজতে হয় বাঙালির নাম।
এর মধ্যে তবুও রাজনীতির ক্যালেন্ডারে অপ্রত্যাশিত পূর্ণিমা ওঠে বাংলার আকাশে। তেমনই একটা খবর, স্বাধীন ভারতে অর্থাৎ ৭৮ বছরে চতুর্থতম বাঙালি রাজ্যপাল হতে চলেছেন। সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়, বিষ্ণুকান্ত শাস্ত্রী, তথাগত রায়ের পর এই ক্ষীণ তালিকায় নাম লেখালেন একদা বঙ্গ বিজেপির সভাপতি অসীম ঘোষ। যদিও বাংলার বিজেপির কাছে এটি নিঃসন্দেহে একটা চমক। ১৯৯৯ সালে বিজেপি ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি নেওয়ায় তৎকালীন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী তপন শিকদারকে বঙ্গ বিজেপির সভাপতির আসন ছাড়তে হয়েছিল। সেসময় নির্বাচন না করে সভাপতি করা হয়েছিল এই অসীম ঘোষকে। পরে তিনি নির্বাচিত সভাপতি হয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে তথাগত রায়ের পক্ষ নিয়েছিলেন রাহুল সিনহা, শমীক ভট্টাচার্যরা। অসীমবাবু ছিলেন তপন শিকদার পন্থী।
সেই থেকে বঙ্গ বিজেপির বিভাজন শুরু। সে সময় অসীম ঘোষ তার কমিটি থেকে বাদ দিয়ে দেন রাহুল, শমীকদের। তারপর তথাগত রায় বঙ্গ বিজেপির সভাপতি হওয়ায় দলীয় রাজনীতিতে কোনঠাসা হয়ে পড়েন অসীম ঘোষ। ক্রমেই বঙ্গ বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে। একসময় অসীমবাবুকে তেমন ভাবে আর দেখা যায়নি। এবার বঙ্গ বিজেপির সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় ফের অসীমবাবুকে সামনে দেখা যায়। এবং এর অল্প কিছুদিন পরই তিনি কেন্দ্রের এই পুরষ্কার পেলেন। কে জানে এ ভাবে কার ভাগ্যে কখন শিকে ছেঁড়ে !
