ওঙ্কার ডেস্ক : অসামের হোজাইতে সাইরং-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস যাওয়ার সময় লাইনে একটি হাতির পাল চলে আসে। ট্রেনের ধাক্কায় কমপক্ষে সাতটি হাতি মারা গেছে বলে জানা গেছে। এই দুর্ঘটনায় একটি বাছুরও আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাত সোওয়া দুটো নাগাদ। এই দুর্ঘটনায় রাজধানী এক্সপ্রেসের পাঁচটি কোচ লাইনচ্যুত হয়। যার ফলে ওই লাইনে রেল পরিষেবা ভীষণ ভাবে ব্যাহত হয়। দুর্ঘটনাগ্রস্থ রাজধানী এক্সপ্রেসটি মিজোরামের সাইরং (আইজলের কাছে) থেকে দিল্লির আনন্দ বিহার টার্মিনালের মধ্যে যাতায়াত করে।
দুর্ঘটনার পর গুয়াহাটি রেলওয়ে স্টেশনে হেল্পলাইন নম্বর জারি করা হয়েছে। যার নম্বরগুলি হল-
০৩৬১-২৭৩১৬২১
০৩৬১-২৭৩১৬২২
০৩৬১-২৭৩১৬২৩
দুর্ঘটনাস্থলটি গুয়াহাটি থেকে প্রায় ১২৬ কিলোমিটার দূরে। ঘটনার পরপরই ত্রাণ ট্রেন সহ রেল কর্মীরা উদ্ধারকাজ শুরু করতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
হাতির মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তিনি লিখেছেন, “আজ সকালে এক মর্মান্তিক ট্রেন সংঘর্ষে সাতটি হাতি – তিনটি প্রাপ্তবয়স্ক এবং চারটি বাছুরের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।” তিনি আরও জানিয়েছেন, “আমি বন বিভাগকে এই গভীর উদ্বেগজনক দুর্ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত পরিচালনা করার এবং আমাদের বন্যপ্রাণী করিডোরগুলিকে আরও সুরক্ষিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি, বিশেষ করে কম দৃশ্যমানতার মরসুমে।”
সূত্র মারফত জানা গেছে, রাজধানী লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে এবং দুর্ঘটনায় হাতির দেহের অংশগুলি লাইনে ছড়িয়ে থাকায় ট্রেন পরিষেবা বিঘ্নিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কোচের যাত্রীদের ট্রেনের অন্যান্য কোচের খালি বার্থে সাময়িকভাবে জায়গা করে দেওয়া হয়। ট্রেনটি গুয়াহাটি পৌঁছানোর পর সমস্ত যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করে ট্রেনটি ট্রেনটি তার পরবর্তী যাত্রা শুরু করে। ঘটনাটি এমন একটি স্থানে ঘটেছে যা নির্দিষ্ট হাতির করিডোর নয়। রেললাইনে হাতিদের দেখতে পেয়ে লোকো পাইলট জরুরি ব্রেক চাপেন। তা সত্ত্বেও, হাতিগুলি ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খায়, যার ফলে এই সংঘর্ষ এবং কোচগুলির লাইনচ্যুতি।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের প্রধান জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। সিপিআরও শর্মা লোকো পাইলটের জরুরি ব্রেক প্রয়োগের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “এর ফলে আরও বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন যাত্রীরা। সাইরং থেকে আনন্দ বিহারগামী রাজধানী এক্সপ্রেসটি যখন দ্রুত গতিতে আসছিল তখন লোকো পাইলট প্রায় ১০০টি হাতির একটি দলকে রেললাইন অতিক্রম করতে দেখেন। তিনি জরুরি ব্রেক চাপেন, কিন্তু কিছু হাতি ট্রেনের ধাক্কায় আহত হয়।” ট্রেনটি পুনরায় যাত্রা প্রসঙ্গে শর্মা আরও বলেন, “ট্রেনের মোট ৬০০ যাত্রীর মধ্যে, ক্ষতিগ্রস্ত কোচের ২০০ যাত্রীকে নিরাপদে অন্য কোচে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং ট্রেনটি আবার যাত্রা শুরু করেছে।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, “মেরামতের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব তা শেষ হবে। লাইনচ্যুত কোচগুলিকে শীঘ্রই নিয়মিত ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু করার জন্য স্থানান্তরিত করা হবে, কারণ বর্তমানে কেবল একটি লাইন চালু রয়েছে।” শর্মা আরও বলেন, “দুর্ঘটনার পর নয়টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে, ১৩টি নিয়ন্ত্রিত এবং দুটি ট্রেন সংক্ষিপ্তভাবে বন্ধ করা হয়েছে।”

গত মাসে জলপাইগুড়ির ধুপগুড়িতে ট্রেনের ধাক্কায় একটি হাতি মারা যায়। ঘটনাটি ঘটে ৩০ নভেম্বর। ট্রেনের সংঘর্ষে গত ৫ বছরে ৭০ টিরও বেশি হাতির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয় আগস্ট মাসে সংসদকে জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরে সারা দেশে ট্রেনের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৭৯টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। লোকসভায় এক লিখিত জবাবে, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বলেছিলেন যে এই সংখ্যাটি ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী। ভারতীয় বন্যপ্রাণী ইনস্টিটিউট, মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শ করে, ‘রৈখিক পরিকাঠামোর প্রভাব প্রশমনের পরিবেশ-বান্ধব ব্যবস্থা’ শীর্ষক নির্দেশিকাও জারি করেছে যাতে সংস্থাগুলি রেলপথ এবং অন্যান্য প্রকল্পগুলি এমনভাবে ডিজাইন করতে পারে যা মানুষ-প্রাণীর দূর্ঘটনা কমাতে পারে। সিং আরও বলেন যে, হাতি সংরক্ষণ এবং সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে ভারতের বন্যপ্রাণী ইনস্টিটিউটে রেল কর্মকর্তাদের জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মশালা পরিচালনা করা হয়েছিল। ৩,৪৫২ কিলোমিটার জুড়ে ১২৭টি রেলপথ জুড়ে জরিপের পর ‘ভারতে হাতি এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণী ট্রেন সংঘর্ষ কমানোর প্রস্তাবিত ব্যবস্থা’ শীর্ষক একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনও প্রস্তুত করা হয়েছিল।
