ওঙ্কার ডেস্ক: নানুর থুপসড়ার পাতিছাড়া গ্রামে শুক্রবার রাতের অন্ধকারে আচমকাই ছিন্ন হলো এলাকার শান্তি। রাতে গ্রামের নাটমন্দিরের সামনে কয়েকজন বসেছিলেন গল্প-আড্ডায়। সেই মাঝেই হঠাৎ ছুটে আসে কয়েকজন সশস্ত্র দুষ্কৃতী। হাতে লোহার রড, শাবল এবং ধারালো অস্ত্র। উপস্থিতদের কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয় নির্বিচার মারধর। আক্রমণের জেরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রাসবিহারী সর্দার, বয়স প্রায় পঞ্চাশ, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার শাসকদলের বুথ সভাপতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর শরীরের ওপর একের পর এক আঘাত নেমে আসে। তাঁকে বাঁচানোর সুযোগই পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন রাসবিহারী এবং পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
তাঁর সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজনও গুরুতর জখম হন। আহতদের কাঁটা-চেরা আঘাত, মাথায় ও হাতে গভীর জখম দেখা গেছে। তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই খবর ছড়িয়ে যায় গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। স্থানীয়রা কেউ কেউ দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার দাবি তুলেছেন আবার কেউ বলছেন, আগে থেকেই শত্রুতা এবং বিরোধ জমে ছিল দুই পক্ষের মধ্যে। ফলে হামলা পূর্বপরিকল্পিত হওয়াই স্বাভাবিক বলে তাঁদের দাবি। যদিও বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।
রাসবিহারীর পরিবার ভেঙে পড়েছে। তাঁর ছেলে জানিয়েছেন, বাবা রাতে পার্টি অফিস থেকে ফিরে পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়ই অবস্থা বদলে যায়। কয়েকজন লোক এসে তাঁকে লক্ষ্য করে বারবার মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে। তিনি জানান, কেউ সাহায্য করার সুযোগ পায়নি। হামলাকারীরা মুখ ঢেকে এসেছিল এবং মারধর শেষ করেই দ্রুত পালিয়ে যায়। পরিবারের দাবি দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হোক এবং কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।
এ ঘটনার পর পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, দাগী শত্রুতা নাকি অন্য কোনো জায়গা থেকে গঠিত শত্রুতা কোন কারণ এই হত্যার পেছনে? অভিযোগ উঠছে প্রতিপক্ষ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এবং সেই সূত্র ধরে তদন্তও চলছে। প্রশাসনিক দিক থেকে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাতেই পুলিশ বড় বাহিনী নিয়ে পৌঁছায় ঘটনাস্থলে। পুরো গ্রাম চষে দেখা হচ্ছে। কাছাকাছি এলাকাতেও নজর রাখা হচ্ছে যাতে হামলাকারীরা আশ্রয় না পায়।
অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন পড়েছে। শাসক দলের এক সক্রিয় কর্মী ও বুথ সভাপতির মৃত্যু রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা। অনেকেই মনে করছেন এটি শুধুই ব্যক্তিগত শত্রুতার বিষয় নয়। এলাকায় দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও বড় ভূমিকা পালন করে।
