ওঙ্কার ডেস্ক: প্রয়াত বাংলা ভাষার প্রখ্যাত লেখক, গবেষক ও বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর। রবিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিট নাগাদ বাংলাদেশের ঢাকার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বদরুদ্দীন উমর বাংলাদেশের জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি ছিলেন। কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম বর্ষীয়ান বাম বুদ্ধিজীবীর প্রয়াণের খবর জানিয়েছেন।
পরিবার সূত্রে খবর, প্রায় এক মাস ধরেই শারীরিক নানান সমস্যায় ভুগছিলেন বদরুদ্দীন উমর। একাধিকবার তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার সকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিয়ে গেলে তাঁকে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ফয়জুল হাকিম জানান, সকাল ১০টা ৫ মিনিট নাগাদ বদরুদ্দীন উমর প্রয়াত হন। এদিন বদরুদ্দীন উমরের মরদেহ হাসপাতাল থেকে নিয়ে শববাহী গাড়িতে রাখা হবে। জাতীয় শহীদ মিনারে সোমবার বেলা ১১টা নাগাদ তাঁর দেহ রাখা হবে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। তবে শ্রদ্ধা জানানোর স্থান পরিবর্তন করা হতে পারে। সোমবার দুপুরে প্রয়াত গবেষকের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
১৯৬১ সালে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বদরুদ্দীন উমর দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে পিপিই ডিগ্রি লাভ করেন। বাংলাদেশে ফিরে ১৯৬৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন উমর। ১৯৬৮ সালে অবিভক্ত বাংলাদেশের গভর্নর মোনায়েম খানের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদে সরব হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে দেন। এর পর থেকে তিনি রাজনীতি ও লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন। তাঁর লেখা ‘পূর্ববাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি’ ভাষা আন্দোলনের ওপর লেখা প্রথম গবেষণাগ্রন্থ। বদরুদ্দীন উমর পৃথিবীতে রেখে গিয়েছেন স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে।
