ওঙ্কার ডেস্ক: কাশ্মীর সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর বড় সাফল্য। গুরেজ সেক্টরে ভোররাতের অভিযানে খতম হল কুখ্যাত জঙ্গি বাগু খান, যাকে সীমান্তে জঙ্গিদের কাছে ‘হিউম্যান জিপিএস’ নামে ডাকা হত। সেনা সূত্রে খবর, বাগু খানের পাশাপাশি আরও এক জঙ্গি গুলিবিনিময়ে মারা গিয়েছে। শনিবার ভোরে গুরেজ সেক্টরের নওশেরা নার এলাকায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল একদল জঙ্গি। সতর্ক জওয়ানরা তাদের উপস্থিতি টের পেতেই শুরু হয় গুলিবিনিময়। খানিকক্ষণের সংঘর্ষে খতম হয় বাগু খান এবং তার এক সঙ্গী। এখনও অন্তত পাঁচজন জঙ্গি ওই এলাকায় লুকিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা, চলছে তল্লাশি অভিযান।
বাগু খান ওরফে ‘সমন্দর চাচা’ ১৯৯৫ সাল থেকে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে ঘাঁটি গেড়েছিল। শুরুতে হিজবুল কমান্ডার হলেও পরে প্রায় সব জঙ্গি সংগঠনেরই আশ্রয়দাতা হয়ে ওঠে। সেনা সূত্রের দাবি, গত তিন দশক ধরে সীমান্তে শতাধিক অনুপ্রবেশ ঘটানোর নেপথ্যে ছিল বাগু খান। গুরেজের দুর্গম পাহাড়ি পথঘাট সে খুব ভালোভাবে আয়ত্ত করেছিল। তাই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর থেকে আসা জঙ্গিদের সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকিয়ে আনা ছিল তার প্রধান দায়িত্ব। এই অভিজ্ঞতার জন্যই জঙ্গি মহলে তার নাম হয়েছিল ‘হিউম্যান জিপিএস’। গোপন পাহাড়ি রাস্তা চিনে নেওয়ার ক্ষমতার জেরে বারবার সেনার চোখ এড়িয়ে সফলভাবে অনুপ্রবেশ করাতে পেরেছিল সে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, সীমান্তপারের জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছে বাগু খানের মৃত্যু একটি বড় ধাক্কা। কারণ, গুরেজ সেক্টরে অনুপ্রবেশ করানোর মতো এতটা অভিজ্ঞ কেউ আর বেঁচে নেই।
কয়েক দিন আগেই একই এলাকায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা দুই জঙ্গিকে খতম করেছিল ভারতীয় সেনা। তার পরেই এই বড় সাফল্য মিলল। ধারাবাহিক অভিযানে সীমান্তে সক্রিয় অনুপ্রবেশ নেটওয়ার্ক কার্যত টালমাটাল হয়ে গিয়েছে বলে মনে করছে নিরাপত্তা মহল।
