নিজস্ব সংবাদদাতা : নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে টাকার বিনিময়ে মহাসংঘের হয়ে দেওয়া কার্ড নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বনগাঁর সভামঞ্চ থেকে মতুয়াদের সতর্ক করে দিয়ে তৃণমূলনেত্রী বলেন, “ভয় পাবেন না। আমরা থাকতে আপনাদের তাড়াতে দেব না।” এদিন জনসভা থেকে তিনি নাম না করে বলেন, “মোদী মন্ত্রিসভার এক সদস্য দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।” তাঁর গ্রেফতারেরও দাবি তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “তৃণমূলের কেউ কিছু না করলেও জেলে ঢোকাও। আর বিজেপির মন্ত্রীরা কিছু করলেও বিদেশে পাঠিয়ে দাও ! এটাই দ্বিচারিতা ! কেন পালিয়েছে? কারণ নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। যতই বাঁচানোর চেষ্টা করুন, রেকর্ড কিন্তু আমরা পেয়ে গেছি।”
রাজ্য জুড়ে এসআইআর নিয়ে আতঙ্কিত পরিবেশের মধ্যে বেশ কিছু দিন ধরেই ঠাকুরবাড়ি থেকে মতুয়াদের সিএএ কার্ড দেওয়া হচ্ছে। স্বয়ং কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর এই কার্ড বিতরণের জন্য শিবির গড়েছেন, যা নিয়ে ঠাকুরবাড়িতেই বিবাদ চরমে উঠেছে। এখানেই অভিষন্ধীর গন্ধ পাচ্ছে তৃণমূল। তারা মনে করছেন, এই কার্ডের মাধ্যমেই মতুয়াদের বাংলাদেশী বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে। মমতা বলেন, ১০০ টাকার বিনিময়ে পাওয়া মতুয়া কার্ডে দিয়ে বলা হচ্ছে, এটা দেখালেই ভোটার তালিকায় নাম উঠবে ! তিনি জানতে চান, এমন নিয়ম কি ইলেকশন কমিশন করেছে ? এর উত্তর দিয়েছেন মমতা। বলেছেন, “ওরা প্রতারণা করছে আপনাদের সঙ্গে।” তিনি বলেন, ”রামকৃষ্ণ মিশনও কার্ড দেয়, কিন্তু কোন দেশের নাগরিক তা ওরা লেখে না।” তিনি আরও বলেছেন, “২০০২ সালের তালিকা ধরে এসআইআর হচ্ছে, কার্ড পাচ্ছেন ২০২৫ সালের নভেম্বর, ডিসেম্বরে। যেখানে আপনাকে বাংলাদেশি বলা হচ্ছে।”
এছাড়াও শান্তনুর নাম না করে তাঁর বিদেশ যাত্রা নিয়ে বিঁধছেন মমতা। তিনি বলেছেন, “বড়মা যখন অসুস্থ তখন তিনি কোথায় ছিলেন। একবার নয়, ৬ বার তাঁকে নার্সিংহোমে ভর্তি করিয়েছি। ঠাকুরবাড়ির উন্নয়ন আমরাই করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় করেছি।” নিশানা করেছেন নির্বাচন কমশকে। তিনি বলেন, “ অপরিকল্পিত পদ্ধতিতে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিএলওদের সঠিকভাবে ট্রেনিং দেওয়া হয়নি। অনেকে কাজের চাপে আত্মহত্যাও করেছেন। মমতা অবশ্য জানিয়েছেন তিনিএসআইআর-এর বিরুদ্ধে নন, কিন্তু যে পদ্ধতিতে এই প্রক্রিয়া শুরু হল তা নিয়ে তাঁর ঘোর আপত্তি।
প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরু থেকে মতুয়া মহাসংঘের পক্ষ থেকে একটি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছিলেন, ১০০ টাকার বিনিময়ে এই কার্ড পাওয়া যাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই কার্ড পাওয়ার আবেদন পত্রে লেখা পড়ে শোনাতে গিয়ে বলেন, “ফর্মে লেখা আপনি বাংলাদেশি ছিলেন। মানে ২০২৫ সালে যখন সার্টিফিকেট পাচ্ছেন, তখন আপনাকে বাংলাদেশি বলে প্রমাণ করে দিচ্ছে।”
তারপরই নিজস্ব ভঙ্গিতে মমতা বিজেপিকে নিশানা করেন। বলেন, “বিহারে মানুষ আপনাদের গেম ধরতে পারেনি। কিন্তু বাংলার মানুষ আপনাদের সব গেম জানে। তাই বাংলা আপনাদের টার্গেট। বাংলা দখল করতে গিয়ে গুজরাট হারাবে।”