
প্রাইমা হোসেন
শেখ হাসিনা ছিলেন বাংলাদেশের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট। তার দূরদর্শী, বিচক্ষণ এবং ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলো আজ দেশবাসীর কাছে দিনের আলোর মতো প্রমাণ হয়ে গেছে। বিগত দুই বছরের অস্থিরতা, সহিংসতা ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে – বাংলাদেশের জন্য শেখ হাসিনাই একমাত্র সুযোগ্য নেত্রী।
সংকটে নেতৃত্বের পরীক্ষা
একটি দেশের অস্তিত্ব যখন সংকটে পড়ে, তখনই বোঝা যায় নেতার মেধা ও যোগ্যতা কতটা। ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত শেখ হাসিনা বারবার প্রমাণ করেছেন কেন তিনি “মাদার অফ হিউম্যানিটি”।
২০০৮ এর বৈশ্বিক মন্দা, করোনা মহামারী, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও খাদ্য সংকট – প্রতিটি বৈশ্বিক ঝড়ে বাংলাদেশকে তিনি সফলতার সাথে পার করেছেন। যখন দুনিয়ার বড় বড় দেশ হিমশিম খাচ্ছিল, তখন বাংলাদেশে খাদ্যের অভাব হয়নি। বিদ্যুৎ ছিল, গ্যাস ছিল, উন্নয়নের চাকা থেমে যায়নি। কারণ তার সিদ্ধান্ত ছিল সময়োপযোগী, সাহসী এবং জনগণকেন্দ্রিক।
পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল – এগুলো কোনো সাধারণ প্রকল্প না। এগুলো ছিল ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ভিত্তি। এই দূরদর্শিতা শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কের পক্ষেই সম্ভব যিনি ৫ বছর না, ৫০ বছর পরের বাংলাদেশ ভাবেন।
জাতির হৃদয়ে অবস্থান
শেখ হাসিনা শুধু একজন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। তিনি ছিলেন ১৮ কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার আশ্রয়স্থল। গ্রামের কৃষক থেকে শহরের শ্রমিক, ছাত্র থেকে ব্যবসায়ী – সবার হৃদয়ে তার নাম। কেন ? কারণ তিনি কথা দিয়ে কথা রেখেছেন। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছেন। বিনামূল্যে বই, উপবৃত্তি, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। আজ তাই যখন রাস্তায়, বাজারে, ফেসবুকে মানুষ কথা বলে, তখন বারবার একটি নামই ভেসে ওঠে – শেখ হাসিনা। তিনি বাঙালির অবিনশ্বর নীলকন্ঠী। চিরন্তন, চিরসঙ্গী, অভিস্মরণীয়।
গত দুই বছর: তুলনার আয়না
বিগত দুই বছরে জাতি সবচেয়ে বড় শিক্ষা পেয়েছে। নেতৃত্বের শূন্যতা কত ভয়াবহ হতে পারে তা আমরা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। একদিকে মোব ভায়োলেন্স, বিনা বিচারে হত্যা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি। অন্যদিকে অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জিনিসপত্রের দাম, বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা। পররাষ্ট্রনীতিতে দিকহারা অবস্থা। যেখানে শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশ ছিল “উন্নয়নের রোল মডেল”, আজ সেখানে প্রশ্ন উঠছে “আগামীকাল কি হবে ?”
এই তুলনাই প্রমাণ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব কতটা অপরিহার্য ছিল। তিনি শুধু সরকার চালাননি, রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল রেখেছেন। সংঘাতকে সংলাপে, সহিংসতাকে সহনশীলতায় রূপান্তর করেছেন।
এখন সময়ের দাবি
দেশকে রক্ষা করতে হলে, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে, অর্থনীতিকে আবার চাকায় ফিরাতে হলে এই মুহূর্তে প্রয়োজন শেখ হাসিনার নেতৃত্ব। বাংলাদেশের মানুষ আবারও শান্তি চায়। উন্নয়ন চায়। সম্মান চায়। এই তিনটির গ্যারান্টি শুধু শেখ হাসিনাই দিতে পারেন। কারণ তার সঙ্গে আছে অভিজ্ঞতা, আছে জনসমর্থন, আছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।
ইতিহাস সাক্ষী – বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন, আর শেখ হাসিনা সেই স্বাধীনতাকে অর্থনৈতিক মুক্তিতে রূপ দিয়েছেন। ২০২১ সালে আমরা উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছি। ২০৪১ সালের “স্মার্ট বাংলাদেশ” এর রূপরেখা তিনিই দিয়েছেন।
নেতা আসে যায়। কিন্তু যুগ-নায়ক একবারই আসে। শেখ হাসিনা সেই যুগ-নায়ক। তিনি শুধু আওয়ামী লীগের নেত্রী না, তিনি বাংলাদেশের নেত্রী। আজ দেশ যে চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে, সেখান থেকে সঠিক পথে ফেরাতে হলে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। কারণ সংকট চেনে শুধু ক্রাইসিস ম্যানেজারকেই। আর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রাইসিস ম্যানেজার – জাতির পিতার কন্যা, দেশরত্ন শেখ হাসিনা।