তাপস ঘোষ, ফরাক্কা : ফরাক্কা ব্যারেজের আপ স্ট্রিমে বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে বইছে জল। ঝুঁকি না নিয়ে ফরাক্কা ব্যারেজে ১০৯ টি গেটই খুলে দেওয়া হয়েছে। যদিও কিছু গেট এই মূহূর্তে আংশিক খোলা রয়েছে বলে ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে। ফরাক্কা ব্যারেজ থেকে এই মূহূর্তে ১৫ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। জলের সিংহভাগ বইছে ভাগীরথী নদীর উপর দিয়ে। পদ্মা দিয়ে খুব কম পরিমাণ জল ছাড় হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যারেজের ফিডার ক্যানেলের সব কটি গেটই খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে ভাগীরথী ও ফিডার ক্যানেল দিয়েও জল বিপদসীমার উপরে বইছে। এদিকে আহিরণ ঘাটে ফিডার ক্যানেল ভাগীরথী নদীতে এসে মিসেছে। যার কারণে আহিরণ থেকে ভাগীরথী নিম্ন অববাহিকায় জলের উচ্চত হুহু করে বাড়ছে। ভাগীরথী তীরবর্তী নিচু এলাকায় প্লাবনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় ইতিমধ্যে জল ঢুকতে শুরু করেছে। ওই এলাকা সহ ভাগীরথীর দুপাড়ের বাসিন্দাদের জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মাৎস্যজীবীদের নদীতে নামতে বারন করা হয়েছে।
গমজ্ঞার উচ্চ অববাহিকায় মালদহ জেলার কিছু অংশে ইতিমধ্যে জল ঢুকেছে। মঙ্গলবার রাত থেকে উচ্চ অববাহিকায় জলের উচ্চতা হুহু করে বাড়ছিল। জল বিপদ সীমার অনেক উপরে ওঠায়, ব্যারেজ থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। ব্যারেজের সব গেট খোলা থাকলেও কিছু গেট আপাতত আংশিকভাবে খোলা রয়েছে। সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, ফরাক্কায় আপস্ট্রিমে গঙ্গার জলস্তর বর্তমানে প্রায় ২৩.৭৫ মিটার। যা বিপদসীমার প্রায় দেড় মিটার উপরে। ফলে গঙ্গা তীরবর্তী এলাকায় বাড়ছে উদ্বেগ। জলস্তর আরও বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী দু’দিনের মধ্যে গঙ্গার জলস্তর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। ফরাক্কা ব্যারেজের জলধারণ ক্ষমতাএ,সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় ব্যারেজের সব কটি গেটই এদিন খুলে দেওয়া হয়েছে। মালদহের দিকে বেশ কয়েকটি গেট আংশিক খোলা হয়েছে। প্রয়োজিন পড়লে সেগুলিও সম্পূর্ণ খোলা হবে বলেই জানানো হয়েছে। তবে ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, এই পরিস্থিতি দু তিনদিন স্থায়ী থাকবে। ধীরে ধীরে আপ স্ট্রিমে জলস্তর নামবে। তখন খুলে রাখা বহু গেট বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এদিন বিভিন্ন জায়গায় ভাগীরথীর জলস্তর ক্রমশ বিপদসীমা ছাড়াতে শুরু করেছে। সুতি, সামশেরগঞ্জ, রঘুনাথগঞ্জ, সাগরদিঘি, জিয়াগঞ্জ এলাকায় উদ্বেগ ছড়াতে শুরু করেছে। বহু নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার একটা সম্ভাবনা দেখা,দিয়েছে। সেই সব এলাকার মানুষ যথেষ্ট উদ্বেগ ও আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছেন। মাইকিং করে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ফরাক্কা ব্যারেজ সংলগ্ন বেশ কিছু এলাকায় ইতিমধ্যে জল ঢুকতে শুরু করায় আতঙ্ক বাড়ছে।