ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। দেশজুড়ে মোট ভোটকেন্দ্রের অর্ধেকেরও বেশি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই তথ্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ ভোটার সকলের মধ্যেই নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের প্রাথমিক সমীক্ষা অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৪ হাজার কেন্দ্রকে উচ্চ ঝুঁকি ও মাঝারি ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে। তার মধ্যে কয়েক হাজার কেন্দ্রকে ‘অত্যন্ত স্পর্শকাতর’ বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যেখানে অতীতে রাজনৈতিক হিংসা, দখলদারি, বুথ জ্যাম বা সংঘর্ষের নজির রয়েছে। এই সব এলাকায় ভোটের দিন গোলমাল, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা সংঘর্ষের আশঙ্কা বেশি বলেই মনে করছে প্রশাসন।
নিরাপত্তা জোরদার করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে অন্তরবর্তী সরকারের তরফ থেকে। পুলিশ, র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, আনসার বাহিনী এবং প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মিলিয়ে প্রায় নয় লক্ষ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভোটের দিন প্রতিটি স্পর্শকাতর কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি মোবাইল টহলদারি দল ও কুইক রেসপন্স টিম রাখা হচ্ছে, যাতে কোনও অশান্তির খবর পেলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছনো যায়।
প্রযুক্তির ব্যবহারের দিকেও জোর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। কোথাও কোথাও দেহে পরিধানযোগ্য ক্যামেরাও ব্যবহার করবেন নিরাপত্তাকর্মীরা। এর ফলে ভোট প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি যেমন বাড়বে, তেমনই অনিয়ম বা হিংসার ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত চিহ্নিত করা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যেসব এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র, সেখানে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। অতীতে যেসব কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, জোর করে ভোটদান বা বিরোধী দলের এজেন্টদের হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল, সেগুলিকে বিশেষ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ভোটের আগে থেকেই ওই এলাকায় ফ্ল্যাগ মার্চ ও সচেতনতা অভিযান চালানো হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন।
তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির দাবি, শুধু নিরাপত্তা বাহিনী বাড়ালেই সমস্যা মিটবে না। ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফেরানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকের মতে, এত সংখ্যক কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত হওয়া নিজেই প্রমাণ করে যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও স্থিতিশীল নয়। রাজনৈতিক মহল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছে, প্রশাসনিক কড়াকড়ি থাকলেও প্রকৃত অর্থে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত অত্যন্ত জরুরী।
নির্বাচন কমিশন অবশ্য আশ্বস্ত করেছে যে, যে কোনও ধরনের অনিয়ম রুখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। প্রতিটি ভোটারের অধিকার রক্ষা করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেই দাবি কর্তৃপক্ষের।
