নয়ন বিশ্বাস রকি
দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং, রান্নার গ্যাসের সংকট আর নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের জীবন। গ্রাম-গঞ্জ থেকে শহর – সর্বত্র এখন একই চিত্র। বিদ্যুৎ নেই, পকেটে টাকা নেই, নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। ঘণ্টায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের অভিযোগ বেশি। বঙ্গোপসাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটিতে আগুন ধরে যায়। ফলে সেখান জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে। পিডিবি সূত্র বলেছে, গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ার পর থেকে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। ফলে লোডশেডিং বেড়েছে। গ্যাস সরবরাহ ঠিক না হলে বিদ্যুতের সংকটও দূর হবে না।
বাজারে গেলে আগুন লাগে
পল্লী অঞ্চলের মানুষ বলছেন, সারাদিনে কয়েক ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। লোডশেডিং এখন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। রান্না করার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। সিলিন্ডারের দামও আকাশছোঁয়া। এমনিতেই দেশে দৈনিক ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। তবে দেশীয় উৎস ও আমদানি থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। এই ঘাটতির মধ্যে একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে গ্যাস-সংকট তীব্র হয়েছে।
সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের জন্য দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি। অনেক শিল্পকারখানায় উৎপাদন বন্ধ অথবা ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে কয়েকটি বন্ধ হয়েছে। গ্যাস-সংকটে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহক এবং সিএনজিচালিত যানবাহনের মালিক-চালকেরা। সরেজমিনে দেখা গেছে যাত্রাবাড়ী, সাইনবোর্ড, রায়েরবাগ, শ্যামপুর, মাতুয়াইল ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেক চালক পর্যাপ্ত গ্যাস পাননি। একইসঙ্গে আবাসিক এলাকাগুলোতেও গ্যাসের স্বল্পচাপে রান্নাবান্না ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। সবচেয়ে বড় চাপ দ্রব্যমূল্যের। চাল, ডাল, তেল, সবজি – সবকিছুর দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ধস
অর্থনীতির অবস্থা “একবারে শেষ পর্যায়ে” বলে মনে করছেন বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষ। লক্ষ শ্রমিক আজ কর্মহীন। শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকারত্ব বেড়েছে কয়েকগুণ।
অনেকের প্রশ্ন: “আওয়ামী লীগের শাসনকালে দেশের মানুষের নিরাপত্তা ছিল, কর্মসংস্থান ছিল, অর্থনীতির চাকা সচল ছিল। কিন্তু এখন ইউনূস ও তারেকের শাসনকালে দেশের অর্থনীতি, মানুষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে?”
সাধারণ মানুষ এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। একদিকে বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট, অন্যদিকে পণ্যের উচ্চমূল্য। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো দিশেহারা। তাদের দাবি, দ্রুত লোডশেডিং কমানো, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হোক। দেশের এই পরিবেশ-পরিস্থিতিতে মানুষ এখন শুধু একটাই উত্তর খুঁজছে – “স্বস্তি কবে ফিরবে?”