মোমতাজ শাহনাজ
ভোট নিয়ে অনেক কারচুপি হয়েছে, ভোট সেন্টার ফাঁকা দেখা দিয়েছে। ১১ তারিখ সন্ধ্যা সময় থেকেই ভোট শুরু হয়েছে। মোঃ ইউনূসের ঐতিহাসিক নির্বাচনের নামে জাতির সঙ্গে প্রহসন ও তামাশা নির্বাচন সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কম ছিল। যদিও মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশন ভোটের পার্সেন্টেজ ইঞ্জিনিয়ারিং করে বেশি দেখাচ্ছে তা ভোটকেন্দ্রে আর ফলাফলে কোন মিল নেই। আওয়ামী লীগের নীরব বিপ্লব হয়েছে ভোট বর্জনে জনগণ স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দিয়েছে। অনেক কেন্দ্রে দেখা গিয়েছে মসজিদের মাইক ব্যবহার করে ভোটারদের ডাকা হয়েছে তারপরেও মানুষ ভোটদান কেন্দ্র থেকে বিমুখ থেকেছে। এই পরিস্থিতিতে উচিত, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বস্তরের কর্মী সমর্থকরা হতাশ না হয়ে সুসংগঠিত ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে চলুন। অচিরেই রাজপথে দেখা হবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গণমানুষের তা আবারও প্রমাণ হয়েছে ১২ তারিখ। বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিকতার সমর্থন নিয়ে রাজপথে জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের সংগ্রাম চলতে থাকবে। অতীতে যারা আওয়ামী লীগকে শেষ করতে চেয়েছে তারা ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে গেছে, এবারও তারই পুনরাবৃত্তি হবে। আওয়ামী লীগকে কেউ থামিয়ে রাখতে পারবে না। কিছু মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী পাকিস্তানপন্থী ছাড়া জামায়াতকে যে আর কেউ পছন্দ করে না এবারও তা প্রমাণ হল। ধর্মের কথা বলেও তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের দেশে ভোট পায়নি। বাংলাদেশ বিরোধী ছাড়া অন্য কেউ ওদের কাছ থেকে বেহেস্তের টিকেট কেনেনি। সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষেরা বরং বেহেস্তের টিকিট বিক্রি করাকে ধর্মবিরুদ্ধ কাজ হিসেবে দেখেছে। ওদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ওরা যে প্রকৃত অর্থেই ধর্মের অপব্যাখ্যাকারী, ইসলামবিরোধী, ধর্মীয় দুর্নীতিবাজ তা এবার বাঙালি চাক্ষুষ করেছে। গত দুই দিন যে কয়টি নির্বাচন কেন্দ্রিক দুর্নীতির খবর গণমাধ্যমে এসেছে তার প্রত্যেকটি ওরা করেছে। বাঙালি ওদের প্রত্যাখ্যান করেছে। ওদের গলাবাজি খতম।
১৮ মাস ধরে ইউনুসের ক্ষমতার সবটুকু ব্যবহার করে প্রশাসন, পুলিশ ও বিচার বিভাগ দখল করেছে জামায়াত। ওরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, ৩২ নম্বরসহ সারা দেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের সকল চিহ্ন ধ্বংস করেছে। ওরা লেখক, শিল্পী, সাংবাদিক, আউল-বাউল, সুফি সাধক, মাজার, হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টানের উপাসনালয় ধ্বংস করে, হত্যা করে পুড়িয়ে মেরে সকল বিরুদ্ধ মত বন্ধ করে দিয়েছে। থামিয়ে দিয়েছে মেয়েদের খেলাধুলা, স্বাধীন চলাফেরা। ওরা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করে, কয়েক লক্ষ জেলে পুরে, দেশছাড়া ও ঘরছাড়া করে রাজনীতির মাঠ ফাঁকা করেছে। পাকিস্তান থেকে সামরিক ও জঙ্গি কর্তাদের বার বার দেশে এনেছে, জেলখানা থেকে জঙ্গি ও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দিয়েছে জামায়াত। ওরা দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
আওয়ামী লীগের মত শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মাঠে নেই। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্যের অপরাধে অভিযুক্ত এবং আদর্শগত ও সাংগঠনিকভাবে দুর্বল বিএনপিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে জামায়াত। ভোটার স্থানান্তর করে, আগের রাতে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে, ব্যালটে সিল মেরে, ভুল বুঝিয়ে ফলাফল শিটে বিএনপির এজেন্টের স্বাক্ষর নিয়ে, দিনের বেলা জাল ভোট দিয়ে নির্বাচনের ফল নিজেদের পক্ষে নেয়ার জন্য এমন হীন কাজ নেই যা জামায়াত করেনি। তবুও কাঙ্ক্ষিত বিজয় তারা পায়নি। বস্তুত তাদের রাজনীতি পছন্দ করে না বাংলাদেশ। এত কিছু নিজেদের পক্ষে থাকার পরেও এবারেই যখন পারল না – তখন রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জন করার স্বপ্ন তাদের এখানেই চিরতরে শেষ করতে হবে।
