ওঙ্কার ডেস্ক: চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তাণ্ডবের অভিযোগ ঘিরে ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সেনারা মারমা সম্প্রদায়ের উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে, গ্রাম পোড়ানো হয়েছে, দোকান ভাঙচুর হয়েছে, বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক স্তরে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। আদিবাসী অধিকার রক্ষাকারী সংস্থা ‘গ্লোবাল অ্যাসোসিয়েশন ফর ইন্ডিজিনিয়াস পিপলস অফ দ্য চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস’ বিদেশি দূতাবাসগুলোর কাছে আবেদন জানিয়েছে, তারা যেন অবিলম্বে প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে ঘটনাস্থল তদন্ত করেন এবং প্রকৃত তথ্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন।
সংগঠনটির অভিযোগ, খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা ও সংলগ্ন এলাকায় সেনা ও বহিরাগত মুসলিম বসতি স্থাপনকারীরা একযোগে হামলা চালায়। এতে চারজন আদিবাসী গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় চল্লিশ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, মোটরসাইকেল দখল, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া, দোকানপাট ধ্বংস করা হয়। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে উপজেলা জুড়ে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া বহু মানুষও সেনার আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
অভিযোগের সূত্রপাত গত ২৩ সেপ্টেম্বর। সিংহিনালা গ্রামে এক মারমা কিশোরীকে বহিরাগত এক ব্যক্তি ধর্ষণ করে। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে আদিবাসীরা লাগাতার আন্দোলন শুরু করেন। তাদের দাবি, এই বিচার আন্দোলন দমন করতেই সেনাবাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। সংগঠনটির মতে, সেনাদের এই পদক্ষেপ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের উপর দীর্ঘদিন ধরে চালানো নিপীড়নেরই সামান্য অংশ।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অবশ্য এই সমস্ত অভিযোগ সরাসরি নস্যাৎ করেছে। তাদের বক্তব্য, এটি আসলে ইউপিডিএফ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলির ষড়যন্ত্র, যারা পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্তি ছড়াতে চাইছে। সেনাদের দাবি, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থেই তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর ভূমিকা নিচ্ছে। গত ১৯ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এলাকায় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার প্রমাণও সেনাবাহিনীর হাতে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, বিদেশি পর্যবেক্ষক দল এলে সত্য উদঘাটিত হবে এবং তবেই হয়তো তাদের ন্যায়বিচারের লড়াই কিছুটা হলেও এগোবে। বর্তমানে গোটা পার্বত্য চট্টগ্রামে উদ্বেগ ও আতঙ্কের আবহ বিরাজ করছে।
