নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া : রাজ্যে ফের তৃণমূল নেতা খুনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলো বাঁকুড়ায়। মৃত তৃণমূল নেতার নাম শেখ সায়ন। জেলার সোনামুখী থানার পিয়ারবেরা অঞ্চলের চকাই গ্রামে ওই যুবককে গুলি করে খুন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কয়েক মাস আগে ওই এলাকায় গুলি চালানোর ঘটনায় কয়েক মাস আগেই গ্রেফতার হয়েছিল শাসক দলের এই স্থানীয় নেতা। এবার তাকেই মরতে হল নৃশংস ভাবে। মাথায় তিন-চার রাউন্ড গুলি করে মারা হয়েছে তাঁকে। মনে করা হচ্ছে, এর পিছনে তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব কাজ করছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে ওই এলাকায় গুলি চালানোর ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছিল ওই ব্যক্তি। সম্ভবত তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই এই খুন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এই ঘটনার পর পুলিশ দু’জন তৃণমূল কর্মীকে আটক করেছে৪।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন শেখ সায়ন। দলের বুথ সভাপতি পদের দায়িত্ব সামলাতেন তিনি। এলাকার এহেন ‘প্রভাবশালী’র খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। কে বা কারা কি কারণে খুন করলো এখন এটাই তদন্ত করে দেখছে সোনামুখী থানার পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে রোজ বাজার এলাকায় আড্ডা মারতেন সায়ন। সোমবারও তার অন্যথা হয়নি। রোজকার মতো কিছুটা রাতে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সেসময় তাঁকে গুলি করা হয়।
স্থানীয়দের কথায়, বাজার এলাকা থেকে কিছুটা দূরে ফাঁকা জায়গায় দুষ্কৃতীরা তাঁকে ঘিরে ফেলে। জানা গেছে, দুষ্কৃতীরা বাইকে করে এসেছিল। তারপর খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করে চম্পট দেয়। রক্তাক্ত অবস্থাতেই স্থানীয়রা সায়নকে চটজলদি নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
ইতিমধ্যে শেখ সায়ন খুনের ঘটনায় ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক কারণ, নাকি ব্যক্তিগত বিবাদ তা এখনও জানা যায়নি। পুলিশ পুরো বিষয়টা খতিয়ে দেখছে।
কিছুদিন আগে একইরকম ভাবে ভাঙড়ে খুন হয়েছিলেন তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি রাজ্জাক খাঁ। ওই নেতারও যথেষ্ট পরিচিতি ছিল এলাকায়। তিনি ছিলেন বিধায়ক সওকত মোল্লার ঘনিষ্ঠ। রাতে বাড়ি ফেরার পথে প্রায় একই ভাবে তিনিও খুন হন। একটি ফাঁকা জায়গায় ঘাপটি মেরে ছিল আততায়ীরা। তৃণমূলের ওই অঞ্চল সভাপতি কাছাকাছি আসতেই তাঁকে পরপর গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপও মারা হয় তাঁকে।
সোনামুখীর এই হত্যা কাণ্ডে অবশ্য গুলি করেই গা ঢাকা দেয় দুষ্কৃতিরা। খুনের ঘটনাটি চাউর হতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। লোক মুখে এই খুনের পিছনে একাধিক কারণ ছড়াতে থাকে। তবে পুলিশ এখনও কোনো নিশ্চিত কারণ সনাক্ত করতে পারেনি। এখনোও পর্যন্ত যে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ তারা তৃণমূলের কর্মী বলে জানা গেছে।
