শুভম কর্মকার, বাঁকুড়া : প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে ফের বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন রাজ্যের বাউরী কালচারাল বোর্ডের চেয়ারম্যান দীপক দুলে। শালতোড়ার তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ককে কূলাঙ্গার বলে সম্মোধন করে তাঁর বিরুদ্ধে তুললেন পাহাড় প্রমাণ দূর্নীতির অভিযোগ। প্রাক্তন বিধায়ককে চ্যলেঞ্জ জানিয়ে চেয়ারম্যানের দাবি, দল তাঁকে ফের নির্বাচনের টিকিট দিলে তার প্রতিবাদে তিনি সবাইকে নিয়ে পথে নামবেন। একই সঙ্গে তিনি আঙুল তোলেন বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেও। দীপক দুলের এই অভিযোগের বিরুদ্ধে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন বোর্ড চেয়ারম্যান।
বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম ও দুই বর্ধমান জেলায় ভালো ভোট রয়েছে বাউরী জাতির। সেই ভোটের কথা মাথায় রেখে বাউরী জাতির উন্নয়নের জন্য ২০২১ সালে খোদ মুখ্যমন্ত্রী ওই ৫ জেলার বাউরী সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য বাউরী কালচারাল বোর্ড গঠনের কথা ঘোষণা করেন। বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয় বাঁকুড়ার তৃণমূল নেতা দেবদাস বাউরীকে। চলতি বছর অগাস্ট মাসে দেবদাস বাউরীকে ওই পদ থেকে সরিয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয় তৃণমূলের বাঁকুড়ার শিক্ষক নেতা দীপক দুলেকে।
চেয়ারম্যান পদে বসার পর থেকেই প্রাক্তন বোর্ড চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একাধিকবার প্রকাশ্যে মুখ খুলতে দেখা গেছে দীপক দুলেকে। এবার প্রাক্তন বোর্ড চেয়ারম্যানের পাশাপাশি তাঁর আক্রমণের লক্ষ্য হলেন শালতোড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক স্বপন বাউরী। দিন কয়েক আগে বাঁকুড়ার মেজিয়ায় প্রাক্তন বোর্ড চেয়ারম্যান দেবদাস দাসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে শালতোড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক স্বপন বাউরী বাউরী কালচারাল বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান দীপক দুলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিষোদ্গার করেছিলেন।

গতকাল সেই সভারই পাল্টা সভা করে একই সঙ্গে প্রাক্তন বোর্ড চেয়ারম্যান দেবদাস দাস ও শালতোড়ার প্রাক্তন বিধায়ক স্বপন বাউরীকে একহাত নিলেন বাউরী কালচারাল বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান দীপক দুলে। নাম না করে বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যানের উদ্যেশ্যে বলেন, ” বোর্ডকে ব্যবহার করে তিনি নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করেছেন। এখন তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় জ্বালা লাগছে। তাই তিনি আদালতে ছুটছেন”। বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া, “বোর্ডের গঠনতন্ত্র না মেনে তাঁকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তাই আদালতে যেতে হচ্ছে। বর্তমান চেয়ারম্যানই আসলে বাউরী জাতির কলঙ্ক”।

শালতোড়ার প্রাক্তন বিধায়ক স্বপন বাউরীর নাম না করে তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বোর্ড চেয়ারম্যান দীপক দুলে বলেন, ” প্রাক্তন বিধায়ক কূলাঙ্গার। তিনি ১০ বছর বিধায়ক থাকলেও বাউরী জাতির একটি মানুষেরও কাজে লাগেননি। নিজে ২৫ টি ডাম্পার করেছেন, আসানসোলে ফ্ল্যাট কিনেছেন। দল ফের তাঁকে টিকিট দিলে শালতোড়া বিধানসভায় বাউরী জাতির মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাবে”। বোর্ড চেয়ারম্যানের এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক স্বপন বাউরী। তিনি বলেন, ” বোর্ড চেয়ারম্যান কয়েকদিন আগেও বিজেপি করতেন। আইএসএফ ও কুরমি সমাজের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এখন সদ্য তৃণমূলে এসে দলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মূর্খের মতো কথা বলছেন। আমার সমস্ত হিসাব নির্বাচন কমিশনের কাছে আছে। আমি তা নিয়ে চ্যলেঞ্জ করতে পারি। দল কাকে টিকিট দেবে না দেবে তা দেখার তিনি কে ? ”
বিজেপির দাবি, সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে শালতোড়া বিধানসভায় দলের টিকিট কে পাবে তা নিয়ে বাউরী কালচারাল বোর্ডকে সামনে রেখে আসলে নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে নেমেছে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী। এই ধরনের মন্তব্য ও পাল্টা মন্তব্য তারই প্রমাণ।
