বিপ্লব দাশ : বঙ্গ বিজেপির কুর্শি বদলের প্রক্রিয়া শুরু হতে চললো। বহু টালবাহনার পর অবশেষে রাজ্যে সভাপতি নির্বাচনের বিজ্ঞতি জারি করেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দলের জাতীয় নির্বাচনী আধিকারিক লক্ষণগারু বঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক নেতা নির্বাচনে মুখ্য আধিকারিক হিসেবে রবিশঙ্কর প্রসাদের নাম ঘোষণা করেছেন। শোনা যাচ্ছে, তিনি খুব শিগগির বাংলায় আসছেন। এবং, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই তিনি রাজ্যের সভাপতি ঠিক করে দেবেন।
কিন্তু যে বিষয়টি নিয়ে এতদিন ধরে টালবাহনা চলছিল তা কি সত্যি মিটলো ? সামনের নির্বাচনকে মাথায় রেখে এক্ষুণিই নতুন মুখ, নাকি সুকান্ত মজুমদারকেই রেখে দেওয়া হবে তা নিয়ে সংশয়ই রয়েই যায়। তবে অনেকেই মনে করছেন, নতুন মুখ এনে এই মুহূর্তে নির্বাচনের দোরগড়ায় হয়তো কোনো রিকস্ নিতে চাইবেন না রবিশঙ্কর প্রসাদ। তিনি নিঃসন্দেহে একজন পোড় খাওয়া রাজনীতিক। বহুদিন ধরে রয়েছেন সংসদীয় রাজনীতিতে। বাজপেয়ী ও মোদী উভয়েরই মন্ত্রিসভায় বহু গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলেছেন। সর্বপরি বঙ্গ বিজেপির অন্দরমহল সম্পর্কে তাঁর ধারণাও অস্পষ্ট নয়। তাহলে কি, সাংগঠনিক নিয়ম মেনে ফের সুকান্তকেই রেখে দেবেন ?
এটা ঠিক, দলের ভাবমূর্তির জন্য একজন নির্বাচিত সভাপতি দরকার। নাহলে সামনের নির্বাচনে মুখ পুড়বে বঙ্গ বিজেপির। তৃণমূলের হাতেও একটা অস্ত্র এসে যাবে, তা হল- যে দল একজন সভাপতি ঠিক করতে পারে না সে আবার মুখ্যমন্ত্রী দেবে কী করে ! আগামী বছর বাংলার নির্বাচন। তার জন্য হাতে খুব একটা সময়ও নেই। এর মধ্যে রয়েছে বর্ষা, তারপর পুজো, তারপর ক্রিশমাস। এসব বাদ দিয়ে হয়তো হাতে থাকবে ৬-৭ মাস। এর মধ্যে নতুন সভাপতির পক্ষে রাজ্যের সংগঠনকে মজবুত করে ভোটকেন্দ্রিক করা চাট্টিখানি কথা নয়। সেই সঙ্গে এমন কোনো নতুন মুখ দেখে যাচ্ছে না, যিনি রাজ্য বিজেপির অভ্যন্তরীণ ফাটল বুজিয়ে সর্বসম্মত ভাবে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তবুও বঙ্গ বিজেপির সভাপতি পদ নিয়ে একটা আগ্রহ এবং বিস্ময় থেকেই যায়। আর তো কটা দিন, হিসেবটা তারপরই পরিষ্কার হবে।
