নিজস্ব সংবাদদাতা : ২০২৬ সালে বাংলার নির্বাচনকে মাথায় রেখে রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজে নেমে পড়লো দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। পশ্চিমবঙ্গে দলের রাজ্য সভাপতির নির্বাচন নিয়ে বহুদিন ধরে টালবাহনা চলছে। মূলত সুকান্ত মজুমদার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার পর এটা দলের কাছে আরও অপরিহার্য্য হয়ে উঠেছে। কারণ নীতি অনুযায়ী “এক ব্যক্তি এক পদ” মেনে রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি নির্বাচন আরও জরুরী হয়ে ওঠে।
এমনিতেই, সুকান্ত মজুমদার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার পর রাজ্যের সাংগঠনিক ক্ষেত্রে তাঁর পক্ষে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে, বঙ্গ বিজেপির বহুধা বিভক্ত অভ্যন্তর থেকে সর্বসম্মত সভাপতি নির্বাচন কতটা সম্ভব তা নিয়েও সংশয় রয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। কারণ, সামনেই নির্বাচন। হাতে সময় এক বছরও নেই। বর্ষা, পুজো, ক্রিশমাস বাদ দিয়ে সাকুল্যে মাস ছয়েক। এই সময়ের মধ্যে কোনো নবীন সভাপতির পক্ষে সাংগঠনিক ক্ষেত্রে মজবুতিকরণ সম্ভব কিনা তাও একটা বড় প্রশ্ন। তাই, দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে অনেকগুলি ফ্যাক্টার নিয়ে চিন্তাভাবনা করা একান্তই জরুরি হয়ে উঠেছিল।

অবশেষে, সমস্ত জট খুলে বাংলায় সভাপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিল বিজেপি। সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে, এই কাজটি জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে শেষ করতে হবে। এরজন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিজেপির পোড় খাওয়া নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদকে। পাটনার সাংসদ রবিশঙ্কর প্রসাদ অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং নরেন্দ্র মোদী, উভয়ের সময়েই কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের মন্ত্রী ছিলেন। দীর্ঘদিন ছিলেন দলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র। পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে তাঁর ধারণা অস্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে মহারাষ্ট্র ও উত্তরাখণ্ডেও সভাপতি নির্বাচন করা হচ্ছে। মহারাষ্ট্রের দায়িত্ব বর্তেছে কিরেন রিজিজু এবং উত্তরাখণ্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হরিশ মালহোত্রাকে। শুক্রবার বিজেপির ন্যাশনাল রিটার্নিং অফিসার কে লক্ষ্মণ তিন রাজ্যে দলের এই নির্বাচনি প্রক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন। এঁরা শুধু রাজ্য সভাপতি নয়য়, এই তিন রাজ্য থেকে দলের জাতীয় পরিষদের সদস্যদেরও নির্বাচনের মাধ্যমে বাছাই করবেন। জাতীয় পরিষদের সদস্য করা হয় প্রতিটি সংসদীয় আসন থেকে একজন করে। যাঁরা দলের জাতীয় সভাপতি নির্বাচনে ভোটাধিকার পান।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যেই রবিশঙ্কর বাংলায় আসছেন। তার পরেই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্য সভাপতি বেছে নেওয়ার কাজ শুরু হবে। সুকান্ত মজুমদারই রাজ্য সভাপতি থাকবেন, না কি অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নির্বাচনের মাধ্যমেই ঠিক করা হবে। রাজ্য সভাপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা নেবেন রবিশঙ্করই। তার পরেই নির্বাচনের মাধ্যমে চূড়ান্ত নাম বেছে নেওয়া হবে। ফলে রাজ্য বিজেপির পদে কে কে নমিশেন জমা দেন তা খুব শীঘ্রই স্পষ্ট হয়ে যাবে। এমনিতে বঙ্গ বিজেপিতে সুকান্তর উত্তরসূরি হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম উঠে আসছে। এঁদের মধ্যে বঙ্গ বিজেপির সফলতম সভাপতি দিলীপ ঘোষও ছিলেন একসময়। কিন্তু পরিস্থিতির ঘেরাটোপে তিনি এখন অনেকটাই নিস্প্রভ। এছাড়া আছেন শমীক ভট্টাচার্য, অগ্নিমিত্রা পাল, শুভেন্দু অধিকারী, উঠেছিল কার্তিক মহারাজের নামও।
