বিপ্লব দাশ : বঙ্গ বিজেপির কুর্শি বদল নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সম্ভবত যে আশঙ্কা ছিল, তার একটা ‘শ্যাডো শেড’ ইতিমধ্যেই দেখা দিচ্ছে। আগের ত্রিকোণ নেতৃত্ব এখন চতুর্ভূজ। এই কৌণিক বৃদ্ধিতেই বঙ্গ বিজেপির হয়তো নব্যরূপের কূঁড়ি জাগছে। কিন্তু রহস্য রহস্যতেই। এবং রহস্যময় কারণে এই রহস্যের মধ্যেই বঙ্গ বিজেপির উত্থান ও অগ্রগতি। সেই তপন শিকদার থেকে শমীক ভট্টাচার্য, এ যেন বঙ্গ বিজেপির নজিরবিহীন সংস্কৃতি। সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে।
হরিপদ ভারতী থেকে শমীক ভট্টাচার্য, একের পর এক পালাবদল হয়েছে। কলেবরে বেড়েছে তার সাংগঠনিক আকৃতি। দিল্লিতে ক্ষমতায় থাকার কারণে গুরুত্ব এবং সামর্থ্য বেড়েছে অনেকখানি। কিন্তু বাংলার রাজনীতিতে সেই অর্থে বঙ্গ বিজেপির পূর্ণাঙ্গ রূপ বা একত্রিকরণ দেখেছে কি কেউ ? তপন শিকদারের আমালে যখন এ রাজ্যে বিজেপি ২ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে পৌঁছেছিল, রাজ্যে একটা রেজিমেন্ট বিরোধী দলের উঠে আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল, তখনও এক অদৃশ্য কারণে প্রত্যাশা জোগাতে পারেনি বিজেপি। মোদীর আমলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পশ্চিবঙ্গকে বিশেষ ভাবে নজর দিলেও লক্ষ্যে পৌঁছোতে পারেনি তারা। সম্ভাবনা জেগেছে, কিন্তু তা চালিত করার মতো বঙ্গীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আত্মীকরণ করতে পারেননি কেউই। এই অসাফল্যের অন্যতম কারণ কি অতিমাত্রায় কেন্দ্র নির্ভরতা ?
যদি তাই হয়, তবে সেটাই শেষ নয়। তারচেয়ে অনেক গূঢ় প্রতিবন্ধকতা অবশ্যই বহুধা বিভক্ত গোষ্ঠী। সুকান্ত মজুমদার আপাতত দলের বঙ্গীয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও তাঁর একটা প্রভাব রয়েছে, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে। এদিকে দিলীপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারীর দ্বন্দ্ব কারুরই অজানা নয়। এখন শমীক ভট্টাচার্য এসে দলের মধ্যে যে পরিবর্তণের হাওয়া তুলতে চাইছেন, সেখানেও সিঁদুরে মেঘ দেখছেন অনেকেই। শমীক এসেই জানিয়ে দিয়েছেন, ব্যক্তি নয়, দলই শেষ কথা। এখানেই যুদ্ধটা লাগলো বলে, স্বভাবগত ভাবে বঙ্গ বিজেপির এমন কেউ কেউ আছেন যাঁরা মনে করেন তাঁরাই এ রাজ্যে বিজেপির শেষ কথা। এদিকে কড়া নাড়ছে ২০২৬, শমীকের সামনে অবশ্যই সেটা অগ্নি পরীক্ষা।
