ওঙ্কার ডেস্ক: ভোপালের কুখ্যাত দুষ্কৃতী ‘রহমান ডাকাত’-এর বাস্তব রূপ অবশেষে ধরা পড়ল গুজরাতের সুরাতে। মধ্যপ্রদেশের ভোপালের ইরানি ডেরা এলাকার বাসিন্দা আবিদ আলি, যিনি অপরাধ জগতে রহমান ডাকু নামেই বেশি পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নজর এড়িয়ে একাধিক রাজ্যে সক্রিয় ছিল। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে সুরাত ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আবিদ আলি একা নয়, বরং একাধিক সংগঠিত অপরাধচক্রের মূল মাথা ছিল। তার নেতৃত্বে অন্তত ছয়টি গ্যাং সক্রিয় ছিল, যাদের অপরাধের শিকড় ছড়িয়ে পড়েছিল প্রায় ১২ থেকে ১৪টি রাজ্যে। ডাকাতি, ছিনতাই, জমি দখল, তোলাবাজি থেকে শুরু করে ভুয়ো পুলিশ ও সিবিআই আধিকারিক সেজে প্রতারণা—অপরাধের প্রায় সব ধরনের কৌশলই তার গ্যাংগুলির রপ্ত ছিল। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষদের টার্গেট করে অভিনব পদ্ধতিতে লুট চালানোই ছিল তাদের অন্যতম পরিচিত কৌশল।
তদন্তে উঠে এসেছে, রহমান ডাকু নিজে খুব কম ক্ষেত্রেই সরাসরি অপরাধস্থলে উপস্থিত থাকত। দূর থেকে পুরো পরিকল্পনা নিয়ন্ত্রণ করাই ছিল তার কৌশল। বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা তার সহযোগীরা নির্দেশ মেনে অপরাধ সংঘটিত করত। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই তাকে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছিল একাধিক রাজ্যের পুলিশ। সম্প্রতি ভোপালে পুলিশের একটি বড়সড় অভিযানের খবর পেয়ে সে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং সুরাতে আত্মগোপন করে।
সেই খবরই শেষ পর্যন্ত কাল হয় তার। সুরাতে লুকিয়ে থাকার সময় তার গতিবিধির উপর নজর রেখে নিঃশব্দে অভিযান চালায় ক্রাইম ব্রাঞ্চ। কোনও গুলি চালানো বা সংঘর্ষ ছাড়াই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যে একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে এবং আরও অনেক অপরাধের তথ্য জানার জন্য তাকে জেরা করা হবে।
এই গ্রেপ্তারিকে সংগঠিত অপরাধ দমনে বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছে পুলিশ প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের নাম হয়ে ওঠা রহমান ডাকুর গ্রেপ্তারির পর একাধিক রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থাই নতুন করে তার অপরাধচক্রের জাল ভাঙার কাজে নেমেছে।
