ওঙ্কার ডেস্ক: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক লড়াইয়ের উত্তাপ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ১৮টি জেলায় মোট ১২১টি আসনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজ্যে গড় ভোটের হার ছিল প্রায় ১৩.১৩ শতাংশ। কেন্দ্রীয় বিহারের এই আসনগুলিতে এবার মূলত ত্রিমুখী লড়াই দেখা যাচ্ছে একদিকে নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ), অন্যদিকে তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বাধীন রাজদ (আরজেডি) জোট, আর তৃতীয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টি।
এনডিএ এবার ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামছে। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এবং বিজেপি একসঙ্গে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন, উন্নয়ন ও স্থিতিশীল শাসনের বার্তা দিয়ে প্রচারে জোর দিয়েছেন তারা। অন্যদিকে, বিরোধী মহাজোটের মুখ তেজস্বী যাদব কর্মসংস্থান, দুর্নীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জিততে মরিয়া প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তরুণ ভোটারদের বড় অংশ তেজস্বীর এই প্রচারভঙ্গিতে সাড়া দিচ্ছে বলেই রাজনৈতিক মহলে মত।
এবারের নির্বাচনে অন্যতম আকর্ষণ প্রশান্ত কিশোরের দল জন সুরাজ পার্টি। রাজনৈতিক কৌশলবিদ থেকে রাজনীতির ময়দানে পা রাখা কিশোরের দল এবার একাধিক আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তাঁর উপস্থিতি রাজ্যের ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিরোধী ভোটভাগে প্রভাব ফেলতে পারে তাঁর দল।
এই প্রথম দফার ভোট মূলত সেসব কেন্দ্রে হচ্ছে, যেখানে ২০২০ সালের নির্বাচনে রাজদ জোট তুলনামূলকভাবে ভালো ফল করেছিল। ১২১টি আসনের মধ্যে ৬৩টি আসনে তখন জয় পেয়েছিল তেজস্বী যাদবের শিবির। তাই এবারের ভোট তাদের কাছে মর্যাদার লড়াই। অন্যদিকে এনডিএ চাইছে এই এলাকাগুলিতেই হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে।
বিহারের সাধারণ মানুষের কাছে কর্মসংস্থান, দুর্নীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতি এই চারটি ইস্যুই সবচেয়ে বড়। বহু মানুষ এখনও রাজ্যের বাইরে পাড়ি দেন জীবিকার খোঁজে। ভোটের আগে বিরোধীরা এই অভিবাসন সমস্যাকে বড় করে তুলেছে। তবে নীতীশ কুমার সরকারের তরফে দাবি, বিগত বছরগুলিতে রাজ্যে বিনিয়োগ বেড়েছে, পরিকাঠামো উন্নত হয়েছে এবং নারীদের ক্ষমতায়নে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সমস্ত প্রজন্ম এখন বিহারের সার্বিক উন্নতির আশা দেখছেন।
ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলছে বলেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় ইভিএম ত্রুটির কারণে ভোটগ্রহণের শুরুতে সামান্য বিলম্ব হয়েছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে চলছে গোটা ভোট প্রক্রিয়া। সন্ধ্যা নাগাদ ভোটের শতাংশ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম দফার ফলাফল বিহারের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশ অনেকটাই নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ এই ১২১টি আসনই আগামীতে কারা রাজ্যের ক্ষমতার কেন্দ্রে বসবে, সেই পথ অনেকটাই তৈরি করে দেবে।
