আমজাদ আলি শেখ, বর্ধমান : অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখের অনুগামীদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে খুন হলেন রাসবিহারী সর্দার নামে এক তৃণমূল কর্মী। দেহ ময়নাতদন্ত হল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। এরফলে বীরভূম জেলার নানুরে ফের রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অনুব্রত মণ্ডল–ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী ও কাজল শেখ–ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর পুরনো রেষারেসি আবারও রক্তপাতের দিকে গড়িয়ে গেল। অন্নপূর্ণা পুজোর চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে খুন হলেন ওই স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁর বাড়ি নানুর থানার বাসপাড়া এলাকায়।
নিহতের পরিবার অভিযোগ করছে, “এটি নিছক চাঁদা নিয়ে বিবাদ নয়, বরং দলীয় গোষ্ঠী লড়াইয়ের সরাসরি বহিঃপ্রকাশ।” তাঁদের আরও অভিযোগ, “কাজল শেখের অনুগামী বলেই খুন হলেন রাসবিহারী। তাঁর এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় জানিয়েছেন, “আমরা কাজল শেখের সঙ্গে তৃণমূল করি। সেই কারণেই রাসবিহারীকে খুন করেছে অনুব্রত মণ্ডলের গোষ্ঠীর লোকজন। চাঁদা ছিল শুধু অজুহাত।”
পরিবারের দাবি, রাসবিহারী সর্দার দীর্ঘদিন ধরে কাজল শেখের অনুগামী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আর যাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে, তারা সবাই অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলে এলাকায় পরিচিত। এলাকায় দিনের পর দিন দুই শিবিরের ঝামেলা চলছিল। সবাই জানত পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে।
এদিন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের মর্গ থেকে রাসবিহারীর দেহ তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে । শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা বাসাপাড়া। আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক লড়াইয়ের বলি হলেন তৃণমূলের এক নিরীহ কর্মী। তবে এই ধরনের ঘটনা নানুরে নতুন নয়। বারবারই দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে রক্তপাতের অভিযোগ উঠেছে।
