ওঙ্কার ডেস্ক: ফ্রান্সজুড়ে মঙ্গলবার নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ল ‘ব্লক এভরিথিং’ আন্দোলনের জেরে। রাজধানী প্যারিস থেকে শুরু করে নানা প্রান্তে রাস্তাঘাট, মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা সরকারবিরোধী আন্দোলনকে তীব্র করে তোলেন। আন্দোলনের ফলে যান চলাচল কার্যত ভেঙে পড়ে, বন্ধ হয়ে যায় বহু রেল পরিষেবাও। নানা শহরে ময়লা ফেলার ডাস্টবিন, টায়ার জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, তৈরি হয় ব্যারিকেড। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের ব্যবহার করে এবং দেশজুড়ে প্রায় আশি হাজার নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েন করা হয়। কেবল প্যারিসেই মোতায়েন হয় ছয় হাজার আধাসামরিক বাহিনী।
এই প্রতিবাদ কর্মসূচির সূত্রপাত সোশ্যাল মিডিয়া থেকে হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা বৃহৎ আন্দোলনের রূপ নেয়। আন্দোলনের মূল লক্ষ্য সরকারের নীতি ও প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা। বাজেটে সরকারি ছুটি কমানো থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ মূলক খাতে বরাদ্দ কমানোর মতো নানা সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করছেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী কেবল ধনীদের স্বার্থই রক্ষা করছে, অথচ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান ক্রমশ নিম্নগামী হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বাইরুর নেতৃত্বাধীন সরকার সদ্য অনাস্থা ভোটে ভেঙে পড়ার পর থেকেই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা গভীর হয়েছে। এই শূন্যতাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফরাসি সমাজে বাম ও ডান উভয়পন্থী গোষ্ঠীই এখন এই ‘ব্লক এভরিথিং’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এর ফলে আন্দোলন আরও বিক্ষিপ্ত এবং বিস্তৃত রূপ নিচ্ছে।
বিক্ষোভ দমনে মঙ্গলবারই দেশজুড়ে কয়েকশো মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নঁত, তুলুজ, মঁপেলিয়ে-সহ একাধিক শহরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। নাগরিক জীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এলেও আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সরকারের নীতির বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই থামবে না। আন্দোলনের অন্যতম স্লোগান হয়ে উঠেছে ‘সব কিছু বন্ধ করো’। এই অচলাবস্থা আরও কোন পথে এগোয়, তা এখন নির্ভর করছে ফরাসি সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
