ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লি থেকে বাগডোগরাগামী ইন্ডিগোর একটি যাত্রীবাহী বিমানে বোমা থাকার হুমকিকে ঘিরে রবিবার চরম আতঙ্ক ছড়ায়। মাঝআকাশে এই হুমকি পাওয়ার পরই জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে বিমানটিকে উত্তরপ্রদেশের লখনউ বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়। বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রী ও বিমানকর্মীরা নিরাপদে রয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে বিমানটি দিল্লি ছেড়ে নির্ধারিত গন্তব্য বাগডোগরার দিকে যাচ্ছিল। উড়ানের কিছু সময় পর বিমানের শৌচাগারে একটি কাগজে হাতে লেখা বার্তা নজরে আসে, যেখানে বোমা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি নজরে আসতেই বিমানকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে পাইলটকে জানান। পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করে জরুরি অবতরণের অনুমতি চান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে লখনউ বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সকাল নাগাদ বিমানটি নিরাপদে লখনউ বিমানবন্দরে নামানো হয় এবং সঙ্গে সঙ্গেই সেটিকে নির্দিষ্ট আইসোলেশন বেতে নিয়ে যাওয়া হয়। বিমানে থাকা যাত্রীদের ধীরে ও নিয়ন্ত্রিতভাবে নামানো হয়। শিশু, মহিলা ও বয়স্ক যাত্রীদের বিশেষভাবে সহায়তা করা হয়। যাত্রীদের মুখে তখন স্পষ্ট আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার ছাপ ছিল, তবে নিরাপদে নামতে পারার পর অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।
অবতরণের পরপরই বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বম্ব স্কোয়াড, সিআইএসএফ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা বিমানের প্রতিটি অংশ খুঁটিয়ে তল্লাশি শুরু করেন। লাগেজ, কার্গো হোল্ড, ককপিট এবং কেবিন সব জায়গাই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়। একই সঙ্গে যাত্রীদের লাগেজও আলাদাভাবে স্ক্যান করা হয়।
এই বিমানে দুই শতাধিক যাত্রী ও বিমানকর্মী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার কারণে যাত্রীদের মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তথ্য দেওয়া হয়। বিমান সংস্থার তরফেও যাত্রীদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়া হয়।
প্রাথমিক তদন্তে এখনও পর্যন্ত কোনও বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। তবে হুমকিটি কে বা কারা দিয়েছে এবং এর পেছনে উদ্দেশ্য কী, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিমানটি লখনউ বিমানবন্দরেই রাখা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও বিমান নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রশাসন ও বিমান সংস্থার তৎপরতায় বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
