ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লি হাইকোর্টে হঠাৎ বোমাতঙ্কে চাঞ্চল্য ছড়াল শুক্রবার। আদালতের এক আইনজীবীর ইনবক্সে বোমা হামলার হুমকি ই-মেল পৌঁছনোর পরই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে কার্যক্রম তৎক্ষণাৎ স্থগিত করা হয় এবং বিচারালয়ের ভেতরে থাকা বিচারক, আইনজীবী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাইকে দ্রুত বাইরে বের করে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে ফাঁকা করে দেওয়া হয় গোটা আদালত প্রাঙ্গণ।
সূত্রের খবর, বিজয় শর্মা নামের এক ব্যক্তির পাঠানো ওই ই-মেলটি পৌঁছেছিল আইনজীবী আরজি অরুণ ভারতদ্বাজের ইনবক্সে। তাতে লেখা ছিল আদালত চত্বরে বিস্ফোরণের আশঙ্কার কথা। শুধু তাই নয়, ওই বার্তায় একাধিক ব্যক্তির নাম টেনে এনে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ করা হয়েছে। ই-মেলে দাবি করা হয়েছে, “একজন শিয়া মুসলিম, ড. শাহ ফয়সাল, পাকিস্তানের আইএসআই সেলের সঙ্গে কোয়েম্বাটুরে যোগাযোগ স্থাপন করে আজ পাটনায় ১৯৯৮ সালের বিস্ফোরণ পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চাইছে।” সেখানে আরও কয়েকজন রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যের নামও উল্লেখ করা হয়। শুধু বিস্ফোরণ নয়, অ্যাসিড হামলা এবং পুলিশ বাহিনীর মধ্যে অনুপ্রবেশের অভিযোগও তোলা হয়েছে ওই বার্তায়।
হুমকি ই-মেলে এমনও লেখা ছিল যে, দিল্লি হাইকোর্টে একটি বিস্ফোরণ ঘটালে আগের সব হুমকির সত্যতা প্রমাণ হবে। এমনকি দুপুরের ইসলামিক প্রার্থনার পর বিচারকের চেম্বার উড়িয়ে দেওয়ার কথাও সেখানে উল্লেখ ছিল। ফলে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্কে থমকে যায় আদালতের কাজকর্ম। একাধিক কোর্টরুম হঠাৎই উঠে যায়, নিরাপত্তাকর্মীরা কাউকে ভেতরে থাকতে দেননি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় আদালত চত্বর ঘিরে ফেলে বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল মোতায়েন করা হয় এবং তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। যদিও প্রাথমিক তল্লাশিতে আদালত চত্বরে কোনও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়নি। আদালতের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ছাড়পত্র মিললে দুপুর আড়াইটে নাগাদ কার্যক্রম ফের শুরু হতে পারে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ই-মেলের উত্স চিহ্নিত করার পাশাপাশি হুমকির বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করতে তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই কাজে নেমেছেন। আদালত প্রাঙ্গণে বোমার আতঙ্কে স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত হলেও আপাতত তল্লাশিতে কিছু না মেলায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে এ ধরনের হুমকিকে হালকাভাবে না নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতাই অবলম্বন করছে প্রশাসন।
