নিজস্ব প্রতিনিধি : রাখি বন্ধন এর মধ্য দিয়ে গাছ বিতরণ করে এক অভিনব অনুষ্ঠান করল বজবজ বিবেক সংহতি। এই কর্মসূচিকে ঘিরে বজবজে ব্যাপক উৎসাহ চোখে পড়ে।
শুক্রবার সারা দেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও পালিত হচ্ছে রাখি বন্ধন উৎসব। মূলত ভাই-বোনের পারস্পরিক ভালোবাসা, বিশ্বাস ও সুরক্ষার বন্ধনকে কেন্দ্র করেই এই উৎসবের প্রচলন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাখি বন্ধনের তাৎপর্য আরও বিস্তৃত হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রেও এই উৎসব বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবনাকে সামনে রেখে রাখি বন্ধন উৎসব পালিত হয়েছে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা দিতে রাখি বন্ধনকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। বর্তমান সময়েও রাজনৈতিক মতাদর্শের বিভেদ ভুলে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে মেলবন্ধনের বার্তা দিতে রাখি বন্ধন উৎসব বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। রাজনৈতিকভাবে দুই ভিন্ন শিবিরের মানুষও এই দিনে সমস্ত তিক্ততা ভুলে একে অপরের হাতে রাখি পরিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দিতে পারেন।
এই ভাবনাকে সামনে রেখে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজে বিবেক সংহতি ও গঙ্গা মিশনের যৌথ উদ্যোগে রাখি বন্ধন উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের হাতে প্রায় ৩,০০০টি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরেও গাছের চারা পৌঁছে দেওয়া হয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সমাজের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

বিবেক সংহতির দায়িত্বপ্রাপ্ত বিপ্লব দাস বলেন, তাঁদের উদ্যোগ শুধুমাত্র স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। তাঁর কথায়, কোনও সংস্থা মানেই বছরে একবার অনুষ্ঠান করে সারা বছর চুপ করে বসে থাকা নয়। সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা এবং সমাজ ও দেশের প্রতি নিজেদের কর্তব্য পালন করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের দক্ষিণবঙ্গ প্রচার প্রমুখ বিপ্লব রায়। তিনি বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ লাগানো অত্যন্ত জরুরি।” অন্যদিকে, রাখি বন্ধন মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে ঐক্যের বন্ধন আরও শক্তিশালী করে। তাই প্রতিবছর রাখি বন্ধন উৎসব পালন করার পাশাপাশি এবার বিশেষভাবে বৃক্ষ বিতরণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “বর্তমানে নেপাল-সহ বিভিন্ন জায়গায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনা সামনে আসছে। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বৃক্ষের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টিও উঠে আসছে। সেই কারণেই গাছকে মানুষের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” এই কাজে গঙ্গা মিশনও যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে বলে জানান তিনি। এই উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য বজবজ তদন্ত কেন্দ্র, বজবজ থানা, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার এবং বজবজ আরপিএফকেও ধন্যবাদ জানান উদ্যোক্তারা।

অনুষ্ঠান থেকে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে একটাই বার্তা দেওয়া হয়—সবার আগে আমরা মানুষ। রাজনৈতিক মতাদর্শ বা সামাজিক বিভাজন পরবর্তীতে দেশের গৌরব, দেশের পরিবেশের ভারসাম্য, ঐক্য ও সম্প্রীতি রক্ষা করাই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান লক্ষ্য। ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সুন্দর বাংলা এবং সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার সংকল্প নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা এবং মানুষের হাতে সবুজের অঙ্গীকার—বজবজের এই উদ্যোগ সেই বার্তাই আরও একবার সামনে তুলে ধরল।