নিজস্ব প্রতিনিধি, চন্দননগর : সেজে উঠেছে আলোর শহর চন্দননগর। এখানে জগদ্ধাত্রী মানেই নতুন চমক। তা দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। এবছর শুধু মণ্ডপ কিংবা শোভাযাত্রা নয়, জগদ্ধাত্রী পূজোর থিমও চমকে দেবে সকলকে। শুক্রবার বিকেলে চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পূজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমিটির চেয়ারম্যান নিমাই চন্দ্র দাস, সভাপতি শ্যামল কুমার ঘোষ, সম্পাদক শুভজিৎ সাউ, যুগ্ম সম্পাদক অমিত পাল ও দেবব্রত বিশ্বাস, কার্যকরী সভাপতি জয়দীপ ভট্টাচার্য, ওমপ্রকাশ চৌধুরী, মানব দাস সহ অন্যান্যরা।
১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে জগদ্ধাত্রী শোভাযাত্রা। গতবছর চন্দননগর সেন্ট্রাল জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির অধীনে মোট পুজোর সংখ্যা ছিল ১৭৭ টি। এবছর আরও ৩টি নতুন সংযোজন। সংখ্যায় হয়েছে ১৮০ টি। চন্দননগর থানা এলাকায় রয়েছে ১৩৩ টি এবং ভদ্রেশ্বর থানা এলাকায় রয়েছে ৪৭ টি পুজো। শোভাযাত্রাতেও প্রতি বছরের মত এবছর থাকবে নতুন নতুন চমক। এবছর মোট ৭০ টি পুজো কমিটি অংশগ্রহণ করবে জগদ্ধাত্রী শোভাযাত্রায়। মোট লরির সংখ্যা থাকছে ২৪৫ টি। চন্দননগর থানা এলাকার ৫৬ টি পুজো কমিটি এবং ভদ্রেশ্বর থানা এলাকার ১৪ টি পুজো কমিটি অংশগ্রহণ করবে এই শোভাযাত্রায়। জগদ্ধাত্রী প্রতিমা নিরঞ্জন হবে রানী ঘাট সহ চন্দননগর ও ভদ্রেশ্বরের মোট ১৪ টি গঙ্গার ঘাটে।

কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ সাউ বলেন, “চন্দননগরের ঐতিহ্য মেনে বিসর্জনের শোভাযাত্রায় ডিজে বক্স বাজানো যাবে না, প্লাস্টিকের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, প্রতিটি পুজো কমিটি প্রতিমার গাড়িতে অগ্নি নির্বাপক সিলিন্ডার রাখতে হবে। প্রত্যেকটি পুজো কমিটি মণ্ডপের ভিতরে টিভি ক্যামেরা রাখা হবে। প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় কোনরকম আতশবাজি পোড়ানো যাবে না। শোভাযাত্রায় যে সমস্ত গাড়ি অংশ নেয় সেই গাড়ির চালকের সামনে আগে ইলেকট্রিক বোর্ড রাখা হতো, যার ফলে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকতো। এবার চালকের সামনে ফাঁকা রাখতে হবে।”

চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর শোভাযাত্রা শুরু হয়েছিল ৭০ বছর আগে। সাতটি পুজো কমিটি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল কেন্দ্রীয় কমিটি। কেন্দ্রীয় কমিটির নিয়ন্ত্রণাধীন পুজোর সংখ্যা এ বছর দাঁড়িয়েছে ১৮০ তে। পুজো হোক বা বিসর্জনের শোভাযাত্রা কমিটির নির্দেশ না মানলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন। চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী দেখতে লক্ষ লক্ষ মানুষ আসেন। তাদের জন্য টয়লেটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সব জায়গায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং কড়া পুলিশি ব্যবস্থাও থাকবে। শোভাযাত্রার রুটে চারটি জোন ভাগ করা হয়েছে। যেখানে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা থাকবেন।
আগে চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো সপ্তমী থেকে দশমী মোট চার দিন হত। দর্শনার্থীরা চার দিনের মধ্যে তিন দিন প্রতিমা দর্শন করতে আসতেন, আলোকসজ্জা দেখতে আসতেন এবং দশমীর দিন শোভাযাত্রা তে যোগ দিতেন। বিগত কয়েক বছর ধরে প্রতিমা দর্শন এবং আলোকসজ্জা দেখার জন্য পঞ্চমী থেকেই দর্শনার্থীরা আস্তে শুরু করে দেয়। জগদ্ধাত্রী শোভাযাত্রা উপ চেয়ারম্যান মানব দাস জানান, “পঞ্জিকার মত অনুসারে এবারে জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জন শোভাযাত্রা ১ নভেম্বর হবে। এবং তার পরের দিনও চলবে বিসর্জন শোভাযাত্রা।” নিয়ম অনুযায়ী, চন্দননগরে চার দিনের জগদ্ধাত্রী পূজা হয় ও প্রতিমা বিসর্জন হয় দশমীর দিন। কিন্তু, এবারে সেটা একদিন বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পূজা কমিটি।
